২০২৬ বিশ্বকাপে যেন শেষ মুহূর্তই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় অস্ত্র। ম্যাচের একেবারে অন্তিম সময়ে গোল করে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দেওয়া কিংবা পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্যভাবে ফিরে আসা দুই ক্ষেত্রেই সবার ওপরে রয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে নাটকীয় জয়ের পর আরও একবার সেই মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ দিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। প্রথমে এনজো ফার্নান্দেজ সমতা ফেরান, এরপর যোগ করা সময়ের ৪৬তম মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজের গোল নিশ্চিত করে ফাইনালের টিকিট।

এই গোলের মাধ্যমে ২০২৬ বিশ্বকাপে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে সবচেয়ে বেশি গোল করা দলের তালিকায় শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছে আর্জেন্টিনা।

এবারের বিশ্বকাপে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে আর্জেন্টিনার গোলগুলো হলো—

* গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ জয়ে ৪৯তম মিনিটে লিওনেল মেসির গোল।

* শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে ৩-২ জয়ে ৪৬তম মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোল।

* সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ জয়ে ৪৬তম মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজের ফাইনাল নিশ্চিত করা গোল।

দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে সর্বাধিক গোল

আর্জেন্টিনা - ৩টি গোল

অস্ট্রিয়া - ২ গোল

বেলজিয়াম - ২ গোল

ব্রাজিল - ২ গোল

কানাডা - ২ গোল

ফ্রান্স - ২ গোল

মরক্কো - ২ গোল

সেনেগাল - ২ গোল

তবে এই পরিসংখ্যানে অতিরিক্ত সময়ের গোল অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যেমন, কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-১ জয়ে আর্জেন্টিনা অতিরিক্ত সময়ে দুটি গোল করেছিল, যা এই তালিকায় ধরা হয়নি।

শুধু শেষ মুহূর্তের গোলই নয়, পিছিয়ে পড়ে জয় পাওয়ার ক্ষেত্রেও বিশ্বকাপে সবার ওপরে রয়েছে আর্জেন্টিনা।

এবারের আসরে পিছিয়ে থেকেও দুটি ম্যাচ জিতেছে স্কালোনির দল। শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় আলবিসেলেস্তেরা। এরপর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও পিছিয়ে থেকে ২-১ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে ওঠে।

মজার বিষয় হলো, ২০২৬ বিশ্বকাপে পিছিয়ে থেকে দুই ম্যাচ জেতা একমাত্র দুই দল ছিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। তবে সেমিফাইনালে মুখোমুখি লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে এই পরিসংখ্যানে এককভাবে শীর্ষে উঠে গেছে আর্জেন্টিনা।

অন্যদিকে, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে স্কালোনির দল কোনো ম্যাচেই পিছিয়ে থেকে জয় পায়নি। বরং উদ্বোধনী ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে এগিয়ে থেকেও ২-১ ব্যবধানে হেরে গিয়েছিল তারা।

এবারের বিশ্বকাপে অবশ্য ভিন্ন এক আর্জেন্টিনাকে দেখা যাচ্ছে। যে দল শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত লড়াই ছাড়ে না এবং সংকটের মুহূর্তেই নিজেদের সবচেয়ে ভয়ংকর রূপে হাজির হয়। এই মানসিক দৃঢ়তাই এখন তাদের টানা দ্বিতীয় এবং ইতিহাসের চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্নের সবচেয়ে বড় শক্তি।

আরআর/আইএন