পাবনার সুজানগরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের উপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপজেলা ও জেলা শাখা সহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নামে দুটি মামলা করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাতে সুজানগর থানায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়। দুটি মামলায়ই সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাবকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া একই কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহিনুজ্জামান শাহিন ও নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের উপজেলা শাখার সভাপতি আমিরুল ইসলামসহ অনেককেই মামলা দুটিতে আসামি করা হয়েছে। নাশকতা পরিকল্পনা ও এতে সহযোগিতার অভিযোগে একটি মামলায় জেলা আওয়ামীলীগ নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল আহাদ বাবুকেও আসামি করা হয়েছে।

মামলার পর শুক্রবার (১৭ জুলাই) মধ্যরাত থেকে শনিবার ভোর অবধি অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম। আটকদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ‘মামলার পর শুক্রবার (১৭ জুলাই) মধ্যরাত থেকে শনিবার ভোর অবধি সুজানগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক নারীসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হচ্ছে।’

পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোর রাতে অভিযানে গেলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে গাড়ি ভাঙচুর এবং মারধর করা হয়।

আরও পড়ুন

মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ আ’লীগ নেতা-কর্মীদের নামে

এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা, গাড়ি ভাঙচুর ও হত্যার উদ্দেশ্যে পুলিশকে মারধরের অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সুজানগর উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুল ওহাবকে প্রধানকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এই মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুজ্জামান শাহিন, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের উপজেলা শাখার সভাপতি আমিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক এসএম সোহাগসহ ৫৫ জনকে নামীয় আসামি করা হয়েছে।

এদিকে একই দিনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাদের নামে আরেকটি মামলা করেছে পুলিশ। এতেও প্রধান আসামি আব্দুল ওহাব। এছাড়া আরও ৫৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পরিকল্পনা ও এসব কাজে সহযোগিতার অভিযোগ এনে এ মামলা করা হয়েছে। উভয় মামলায়ই ২৫০-৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।

আলমগীর হোসাইন নাবিল/কেজে/এএসএম