সংসদ অভিমুখে মিছিলরত বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের ‘নিষ্ঠুর বলপ্রয়োগ’ জাতির বিবেককে নাড়া দিয়েছে- এমন অভিযোগে করা আবেদনের শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্ট দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রকে নোটিশ জারি করেছে। সিসিটিভি ও অন্যান্য ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে।বুধবারের (২২ জুলাই) শুনানিতে আবেদনকারীদের আইনজীবী এবং দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রের পক্ষে উপস্থিত অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস রাজুর মধ্যে তুমুল বাদানুবাদ দেখা যায়।আবেদনকারীদের আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, নারীদের শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। তাদের গোপনাঙ্গে আক্রমণ করা হয়েছে। পেরেকযুক্ত লাঠি ব্যবহার করা হয়েছে। পুলিশ কর্মীদের কাছে কোনো ব্যাজ ছিল না। আইনজীবীরা জানান, এই দাবিগুলোর সমর্থনে তাদের কাছে ১১০টি ভিডিও রয়েছে।সিনিয়র আইনজীবী এন হরিহরণ ও বিকাশ সিং বলেন, ‘বিক্ষোভকারীরা সংবিধান প্রদত্ত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও সমাবেশের অধিকার প্রয়োগ করছিলেন। এরপর যা ঘটল তা ছিল অকল্পনীয়। সর্বোচ্চ মাত্রায় নৃশংসতা চালানো হয়েছে।’তারা আরও বলেন, ‘নারীদের গোপনাঙ্গে পুলিশের আঘাত করতে দেখা গেছে। বিক্ষোভে থাকা নারীদের শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। ৯০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।এই সংখ্যা বেড়েই চলেছে।’এস রাজু পাল্টা যুক্তি দেন যে আবেদনকারীরা সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিওর ওপর নির্ভর করছেন। তিনি বলেন, ‘এটা সর্বজনবিদিত যে তথাকথিত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ছিনতাই হয়ে যায়। কিছু রাজনৈতিক দল আছে যারা এর সুযোগ নিতে চায়।’তিনি আরও দাবি করেন, ‘এই আবেদনগুলোর পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে। এটি প্রচারের আলোয় আসার জন্য করা একটি আবেদন। কিন্তু আইন অনুযায়ী এটি গ্রহণযোগ্য নয়।’প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, ‘আপনারা কীভাবে বলতে পারেন যে এটি একটি প্রচারমূলক আবেদন?’প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এটি কি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল? সম্ভবত, না। দ্বিতীয়ত, যদি এটি একটি বেআইনি সমাবেশ হয়ে থাকে, তবে তা মোকাবেলার জন্য একটি পদ্ধতি রয়েছে।’আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করে, ‘আমরা এখনও ভিডিওগুলো যাচাই করার মতো অবস্থানে নেই। অতএব, আপনাকে একটি জবাব দাখিল করতে হবে।’হাইকোর্ট বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে কেন্দ্রকে নোটিশ জারি করেছে। প্রাসঙ্গিক সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি
রাজনীতি
পুলিশি নির্যাতনের ১১০ ভিডিও, দিল্লি হাইকোর্টের নোটিশ

শেয়ার করুন







