রাজধানীর তীব্র আবাসন ও স্থান সংকট দূর করতে ঢাকা শহরের বিস্তার পূর্বাচল পর্যন্ত প্রসারিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি মন্তব্য করেছেন, রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পই প্রকৃত অর্থে ‘নতুন ঢাকা’ হিসেবে গড়ে উঠবে। আর এই মেগা সিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে পুলিশের একটি পৃথক ও বিশাল বিশেষ ইউনিট গঠনের কাজ চলছে।বুধবার (১ জুলাই) রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায় নবনির্মিত ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।আইজিপি জানান, বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে পূর্বাচলে পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো। একটি পরিকল্পিত ও নিরাপদ নগরী গড়ে তুলতে এই ক্যাম্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।মো. আলী হোসেন ফকির জানান, সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অধীনে এক বিশাল নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হচ্ছে। এর আওতায় রয়েছে: ৪টি পূর্ণাঙ্গ থানা, ৬টি তদন্ত কেন্দ্র, ২টি পুলিশ লাইনস, ৩টি উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) কার্যালয় ও ৪১টি আধুনিক পুলিশ বক্স।ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই আবাসিক প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানা ও তদন্ত কেন্দ্র স্থাপনের প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে।পুলিশের এই বিশাল অবকাঠামো নির্মাণের জন্য রাজউক বাংলাদেশ পুলিশের অনুকূলে পর্যায়ক্রমে ২৯ দশমিক ২১ একর জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ১৮ দশমিক ছয় তিন (১৮.৬৩) একর জমির রেজিস্ট্রেশন ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট জমির নিবন্ধন প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।আইজিপি আরও একটি বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পকে ডিএমপির আওতার মধ্যে এনে একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে সম্পূর্ণ পৃথক একটি বিশেষ বিভাগ গঠন করা হবে। এই মেগা প্রকল্পের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য প্রায় ৬ হাজার ৫২৪ জন পুলিশ সদস্যের নতুন জনবল সৃষ্টির প্রস্তাবও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।প্রাথমিকভাবে পূর্বাচলে দুটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে। যার মধ্যে আজ ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধন করা হলো। আইজিপি আশা প্রকাশ করেন যে, প্রস্তাবিত পশি থানা এলাকায় নির্মাণাধীন অন্য ক্যাম্পটি অর্থাৎ ‘পশি পুলিশ ক্যাম্প’ আগামী দুই মাসের মধ্যে উদ্বোধন করা সম্ভব হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে বাকি সব থানা ও অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, পূর্বাচলে এই পুলিশ ক্যাম্পের উদ্বোধন সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনারই অংশ। এর মাধ্যমে যেমন মেগা সিটি ঢাকার পরিধি বাড়বে, তেমনি নাগরিক সেবা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাও আরও সুসংগঠিত হবে, যা দেশের নগরায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।








