প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাজনৈতিক বিবেচনা নিয়ে এসে কাউকে এগিয়ে দেন আর কাউকে ফেলে রাখেন, তাহলে তো সেই ব্যক্তি বাংলাদেশের মানুষের ক্ষতি করছেন, মানবতার ওপর আঘাত করছেন। এটাই ১৭ বছর ধরে হয়েছে। আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, কত ব্রিলিয়ান্ট ছাত্র, সে ছাত্রজীবনে হয়তো ছাত্রদল করেছে বা তৎকালীন সরকারি দল করত না, অন্য কোনো দল করত; এই কারণে তার প্রমোশন হয়নি। হয়তো প্রথমে চাকরিই হয়নি, পরবর্তীকালে চাকরি পেলেও প্রমোশন হয়নি। সবদিক থেকে সে বঞ্চিত হয়েছে এবং দিনের পর দিন বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে তাকে ফেলে রাখা হয়েছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, কেউ যদি ভালো ডাক্তার হন, উনি যদি রোগীদের প্রতি অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ হন, তাহলে আপনি তাঁকে বাদ দেবেন কেন? তাঁর যোগ্যতাকে কেন অবমূল্যায়ন করবেন? এই অজ্ঞতার কারণে দেশে কোনো ব্রেন গেইন হচ্ছে না, বরং আপনারা মেধার অপচয় করলেন এবং দেশের সর্বনাশ করলেন।

রিজভী বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেখেছি, বাপের বা পরিবারের কেউ হয়তো অন্য দল করে; এই কারণে কারও কোনো প্রমোশন হয়নি। এখানে আমাদের যাঁরা আছেন, যেমন ডা. রফিক, ডা. লোহানী, ডা. জাহাঙ্গীর, ডা. শাকিলসহ যাঁদের আমি চিনি, তাঁদের অনেকেরই পাবলিকেশন আছে। প্রমোশন পাওয়ার জন্য যে সাপোর্ট ও কোয়ালিটি দরকার, কোয়ালিফাই করার জন্য যা যা প্রয়োজন, সবকিছুই তাঁদের আছে। কিন্তু তাঁদের প্রমোশন দেওয়া হয়নি, তাঁরা মেডিকেল অফিসার হিসেবেই থেকে গেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘যদি ৫ আগস্টের পরিবর্তন না হতো, তাহলে এঁরা কেউ অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর বা প্রফেসর হতে পারতেন না, তাঁদের সেই পরিচয়টাই আসত না। তাহলে তাঁদের মতো ভালো ডাক্তাররা প্রফেসর বা অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হওয়ার জন্য যে পড়াশোনা ও রিসার্চ করেছেন, তার তো কোনো মূল্য থাকল না।’

রিজভী বলেন, ‘নেতৃত্বে যদি সামগ্রিক বাংলাদেশ না থাকে, তাঁর হৃদয়ের মধ্যে যদি গোটা বাংলাদেশ না থাকে, সে কিসের নেতা? ১৭ বছর ধরে আমরা সেটাই দেখেছি। দেশের মধ্যে দেশ, ঘরের মধ্যে ঘর—এটাই তৈরি করা হয়েছে। আর এটা করতে গিয়ে আমরা অনেক মেধাবী মানুষকে হারিয়েছি। কেউ হয়তো দেশের বাইরে চলে গেছেন, সেখানেই স্থায়ী হয়ে গেছেন আর ফিরে আসেননি। কেউ হয়তো আজীবনের জন্য বঞ্চিত হয়েছেন, যার ফলে নিজের বিকাশ ঘটিয়ে জাতিকে যে সার্ভ করবেন, সেই জায়গাটা হারিয়ে গেছে।’