কিশোর বয়স থেকে রাজনীতিতে জড়িত হন জাহিদুল ইসলাম (৩৬)। গত দেড় যুগে অনেকবার জেল–জুলুমের শিকার হয়েছেন তিনি। সন্তানকে নিয়ে তাঁর স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে গেছেন; মা–বাবাও তাঁকে বাড়িতে স্থান দেন না। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অন্যের বাড়িতে থাকেন। অবশেষে তিনি বিছানা–বালিশ নিয়ে দলের কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

জাহিদুল ইসলাম ওরফে অমি নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি ওই ইউনিয়নের বাঁশিলা গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে এবং পেশায় দিনমজুর। তিনি বসবাস করার জন্য আজ বুধবার সকালে উপজেলার বাঁশিলা ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে উঠেছেন।

বিএনপির নেতা–কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাহিদুল কিশোর বয়স থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। গত ১৭ বছর তিনি অনেকবার জেল–জুলুমের শিকার হয়েছেন। তবুও রাজনীতি ছাড়েননি। বিরক্ত হয়ে স্বজনেরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। স্ত্রী–সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে গেছেন। মা–বাবাও বাড়িতে স্থান দেন না। তিনি রাতে গ্রামের বিভিন্ন মানুষের বাড়িতে থাকতেন; তাঁরাও এখন আর তাঁকে আশ্রয় দিতে চান না।

এ পরিস্থিতিতে জাহিদুল ইসলাম বিএনপির কার্যালয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। দলের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী একটি কাঠের চৌকি কিনে দিয়েছেন। বাঁশিলা ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে এক কোনায় বিছানা পেতেছেন তিনি। এক কক্ষের দলীয় কার্যালয়ে বসে আজ দুপুরে কথা হয় জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘রাজনীতি আমার মগজে ঢুকিছে। রাজনীতি বাদ দিতে বললে আমার মাথা নষ্ট হয়া যায়। তাই বাপ–মা, স্ত্রী–সন্তানের মন জয় করতে পারিনি। আমি সব হারায়ছি। এখন কাজ করি, পেটের ধান্দা করি। বাকি সময় অফিসে কাটাই। নেতারা বাধা না দিলে এখানেই বাকি জীবন কাটায় দিব। আর যদি কোনো নেতার দয়া হয়, তাহলে তার কাছে একটা ঘর চাবো।’

এ সম্পর্কে মাধনগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি রায়হান মিনা বলেন, ‘জাহিদুল ভাই একজন ভালো কণ্ঠশিল্পী। তাঁর অনেক নির্বাচনী গান রয়েছে। তাঁর জন্য আমরা কিছুই করতে পারিনি। তাই আজ তিনি দলীয় অফিসে উঠেছেন।’

ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, জাহিদুল দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। ওর থাকার জায়গা নাই। আপাতত অফিসে থাকুক। জেলার নেতাদের সঙ্গে কথা বলে ওর থাকার ব্যবস্থা করা হবে।