রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে সকাল থেকে সারাদেশের সঙ্গে রাজশাহীর বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকদের একটি অংশ কর্মবিরতি পালন করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রীরা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর ২টায় রাজশাহীর শিরোইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে সব কাউন্টার তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়।
গাজীপুর যাওয়ার জন্য নওগাঁ থেকে এসেছেন শাহীনা বেগম। তিনি বলেন, আমি গাজীপুর যাবো বলে নওগাঁ থেকে এসেছি। কিন্তু এসে দেখি গাড়ি চলাচল বন্ধ। এখন আমি কি করবো বুঝতে পারছি না।
এদিকে এর আগে সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় ঢাকাসহ সব পথে বাস চলাচল কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ ছিল। পরে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রাত ৮টার দিকে দূরপাল্লার বাস চলাচল শুরু করে। তবে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে শ্রমিকদের একাংশ কর্মবিরতি শুরু করলে অভ্যন্তরীণ সব পথে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দেশ ট্রাভেলস, ন্যাশনাল ট্রাভেলস এবং গ্রামীণ ট্রাভেলসসহ আন্তঃজেলা বাস সেবাও সকাল থেকে বন্ধ আছে।
সাধারণ সভার মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছিলেন শ্রমিকেরা। কিন্তু রাজশাহীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাজী শাহিদুল ইসলাম নিজেই নির্বাচন কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। এরপরই বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেন শ্রমিকেরা।
বেশ কয়েক মাস ধরেই শ্রমিক ইউনিয়নের বেশির ভাগ সদস্য নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছেন। এতে সংগঠনের ভেতরে দুটি পক্ষ তৈরি হয়েছে। শ্রমিকদের একটি পক্ষের অভিযোগ, গত ২৩ এপ্রিল তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন রফিকুল ইসলাম পাখিকে সভাপতি করে একটি নতুন কমিটি ঘোষণা করে।
এই কমিটি প্রত্যাখ্যান করে শ্রমিকদের একাংশ মে মাসে কয়েক দফা ধর্মঘট পালন করেন। পরে জেলা প্রশাসক ঈদের পর নির্বাচন করার আশ্বাস দেন।
সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসক এবং রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলালের উপস্থিতিতে সভা হয়। ওই সভায় বিরোধী শ্রমিকনেতারা আবারও সাধারণ সভার মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের দাবি তোলেন। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা হলে হেলাল ও পাখির বিপক্ষের শ্রমিকেরা বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেন। এই উত্তেজনা শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে কিছু শ্রমিক হেলালের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান। সেখানে লুটপাটও চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন হেলাল।
শ্রমিকনেতা মোমিনুল ইসলাম মোমিন বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থেই আমরা সাধারণ সভার মাধ্যমে নির্বাচন কমিটি গঠনের দবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম হেলালকে এই কমিটিতে রাখতে চেয়েছেন। হেলাল কমিটিতে থাকলে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
তিনি দাবি করেন, হেলাল বাসমালিক হওয়ায় শ্রমিকদের নির্বাচন কমিটিতে তার থাকা উচিত নয়।
নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, সভায় মতবিরোধ হওয়াটা স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু এর জেরে বাস চলাচল বন্ধ করা বা কার্যালয়ে হামলা চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার আগেই তারা আমার চেম্বারে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। আমরা মালিকপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করি। আমরা চাই বাস চালু থাকুক।
মনির হোসেন মাহিন/এনএইচআর/জেআইএম








