“কী যে, কন! দুঃস্বপ্নে ভরা বাংলাদেশ! এমনিই কয়া পারি না, দেশ কি চলের, নাকি উড়ের, নাকি জগদ্দলের মতুন এক জায়গায় বয়া বয়া দিবাস্বপ্ন দেখে! এর মইধ্যে আপনে কন আবার দুঃস্বপ্নে ভরা বাংলাদেশ। যা দিনকাল পড়ছে, জেন-জি স্বপ্নই দ্যাখে না আবার দুঃস্বপ্ন!”“ওই জঙ্গল এই যে তোদের আর্ন্তজাতিক মানের লোকাল ফুটবলার, সামজা না গামজা, প্রতিদিন সংবাদ মাধ্যমে বলছেন, “আমরাও একদিন বিশ্বকাপ খেলব...”“ঠিকইতো কয়, বাংলাদেশ অহন ক্রিকেটে ওয়ার্ল্ড কাপ খেলের, তো বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখতেই পারে যে হ্যায় ফুটবলেও একদিন বিশ্বকাপ খেলবো, তো এতে অসুবিধা কী?”“অসুবিধা কিছুই নেই, খালি বলছিলাম এই বাংলাদেশ যে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলবে, এটা দুঃস্বপ্ন নয়? যে খানে ভারতের ১৪০ কোটি, পাকিস্তানের ২০ কোটি, বার্মার ১০ কোটি এত্তো জনসংখ্যা তারাই বিশ্বকাপে সুযোগ পায়না তোরা খেলবি বিশ্বকাপ ফুটবল! আরে ব্যাটা এটা দুঃস্বপ্ন নয় এটা হলো দিবা-দুঃস্বপ্ন, বুঝেছিস।”“হ মিয়া বুঝেছি! আরে আবালের মতো কথা কয়েন না, কেপ ভার্দে মাত্র পাঁচ লাখ অধিবাসী তারা বিশ্বকাপ ফুটবল খেলতাছে, আর আমাগো বিশকুটি বাঙালি বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা পারবো না! ফাইজলামানি করেন?”“ওরে আমার সোনার ছেলে তোরা নিজেদের কেপ ভার্দের সঙ্গে তুলনা করিস না...”“ক্যেন ক্যেন তুলনা কোরুমনা ক্যান? চার হাজার তেত্রিশ বর্গ কিলোমিটারের দেশ, আমাগো ঢাকার থন, ছুট্টো; হ্যারা যদি বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা পারে, তয় আপনের ভাষায় আমাগো আর্ন্তজাতিক মানের লোকাল ফুটবলার, সামজা না গামছা, তো কোইতেই পারে যে একদিন বাংলাদেশও বিশ্বকাপ ফুটবল খেলবো!”“ঠিক আছে ভালোকথা, একদিন বাংলাদেশও বিশ্বকাপ ফুটবল খেলবে। বলতো কুকুরের বাচ্চা হয় কয়টা?”“কুনো কুত্তার পাঁচ-টা’ কুনো কুত্তার ছয়টা, অনেক সময় আবার সাতটাও হয়।”“এবার বল সাধারণত মানুষের সন্তান হয় কয়টা?”“সাধারণত বছরে একটা।”“কুকুর বছরে দু’বার বাচ্চা দেয়, গড়ে যদি প্রতিবার পাঁচটা করে বাচ্চা দেয়, তাহলে এক বছরে ১০টা, আর দশ বছরে ১শ’টা। ঠিকতো?”“হ, ঠিকোই আছে। তয় কোই কি বিশ্ব কাপ ফুটবলের লগে কুত্তার কি সম্পর্ক! হ্যায় কি সিকিউরিটি দিবো?”“আরে শোন ব্যাটা, দশ বছরে, মানুষ সন্তান প্রসব করে না, দশ’টি আর সারমেয় মানে তোর ভাষায় কুত্তা বাচ্চা দেয় ১শ’টি। এখন বল এই ১শ’ কুত্তার বাচ্চা কি বিশ্বকাপ ফুটবল খেলতে পারবে?”‘জ্বী, না, কুত্তা ক্যেমনে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলবো! তয় মাঝে মাঝে দেখছি হাতি ফুটবল খেলে।”“আর মনুষের বাচ্চা?”“লিওনেল মেসি, এমবাপ্পে, ম্যরাডোনা, পেলে, রোজিনা না না ভোজিনা এই সব মাইনষ্যের পোলারাইতো বিশ্বকাপ ফুটবল খেলবো।”“তাহলে বুঝলিতো সংখ্যা দিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা হয় না, বিশ্বকাপ ফুটবল খেলতে হলে, প্রথমে মানুষ হতে হবে।”“এইটা আপনি কি বলচেন যে, এই ভারতের ১৪০ কুটি লোক এরা কি মানুষ না!”“মানুষ, তবে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার মতো মানুষ হতে পারেনি।”“ বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার লাগি আবার ক্যেমুন মানুষ হওন লাগে? কেপ ভার্দের মাত্রু পাঁচ লক্ষ অধিবাসী মানুষ, আর ভারত, পাকিস্তান, বার্মা...”“ভেবে দ্যেখ, কেপ ভার্দে পর্তুগালের কাছ থেকে ১৯৭৫ সালে স্বাধীনতা লাভ করে। আর তোরা পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা লাভ করলি ১৯৭১ সালে। ওরা তোদের চেয়েও চার বছরের পরে স্বাধীন হলো। অথচ ওরা তোদের কত আগে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলছে, আর তোদের ফুটবলের মান কবে যে বিশ্বমানের হবে তা একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই বলতে পারেন!”“তয় কেপ ভার্দে কি জাদু টোনা করছে, নাকি গাঞ্জা খায়া ফুটবল খেলে?”“ভাইরে, এইসব ফালতু কথা বলেতো লাভ নেই, জাদু টোনা করছে, গাঞ্জা খায়া ফুটবল খেলছে! ওদের সফলতার মূল চাবিকাঠি হলো স্থিতিশীল গণতন্ত্র, সুশাষণ ও শিক্ষা। কেপ ভার্দের তোদের মতো প্রাকৃতিক গ্যাস নেই। কোনো কয়লা খনি নেই, নেই কোনো মিষ্ঠি পানির নদী, তারপরও কেবল, স্থিতিশীল গণতন্ত্র, সুশাষণ ও শিক্ষার আলোয় আজ কেপ ভার্দে উদ্ভাসিত। আর তোরা বাঙালি হয়ে বাঙালিকে হত্যা করছিস। তিন মাস আগের, কবর দেয়া মুসলমানের লাশ তুলে পোড়াচ্ছিস।”“ভাই হ্যেইয়া তো মুই কমু দুই’ একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা...”“তোর লজ্জা করে না, বাঙালি হয়ে বাঙালির থেকে প্রতিদিন চাঁদা তুলিস! এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা! সরকারি সহায়তায় বুল ডোজার দিয়ে জাদুঘর ধ্বংস করিস! তিনবছরের মেয়েদের ওপর অত্যাচার করিস, এইগুলো তোর বিচ্ছিন্ন ঘটনা! তোর বিচ্ছিন্ন ঘটনার ঘনঘটায় সারা দেশ আজ জর্জরিত। আর কবে যে তোর বিচ্ছিন্ন ঘটনার শেষ হবে তার আলামততো আমি আজও দেখতে পাচ্ছি না।”“কারে কিতা কমু, এই যে দুনিয়ায় মানুষ আর মানুষ নাই, তাই বিশ্বকাপ ফুটবলে আমগো কোনো বেইল নাই!”“ভাই সারা পৃথিবীতে যখন সভ্য দেশগুলোতে জেলখানা বন্ধ হচ্ছে, পাঁচ লাখ অধিবাসীর দেশ বিশ্বকাপ ফুটবল খেলছে তখন তোরা নিজেরা নিজেরা মারামারি করছিস আর মরারা পরে মৌজ করার জন্য পৃথিবীটাকে হাবিয়া দোজখ বানিয়ে তুলছিস!”“আপনের কথা হুনি আরে ইকটু শরম লাগে কিন্তু আমারা তো বেহায়া, অশিক্ষিত, আপনের ভাষায় তথাকথিত গণতান্ত্রিক দেশের বাসিন্দা তাই কোই কী, মানুষ হোইলে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলমু, যতনি মানুষ হমু না ততদিন ব্রাজিল আর আর্জেটিনা নিয়া নিজেরা নিজেগো গ্যাঁটের পয়সা খরচ কোইরা দুই মাইল লম্বা পতাকা বানামু আর মনের আনন্দে নাচনাচি করমু।”“সেই ভালো, যতদিন না, প্রকৃত মানুষ হোচ্ছিস ততদিন পরের পায়ে তেল দে, শিল্পী কামরুল হাসানের ভাষায় বিশ্ব-বেহায়ার মতো, নাচানাচি কর!”[লেখক: চলচ্চিত্রকার]
রাজনীতি
রম্যগদ্য: দুঃস্বপ্নে ভরা বাংলাদেশ

শেয়ার করুন







