রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। দেশের প্রচলিত আইন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধান ও বিচারিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থি কোনো কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করা হবে বলেও জানিয়েছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক খবরে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দলকে সক্রিয় করার লক্ষ্যে দেশের ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষকের তৎপরতার বিষয়টি নজরে এসেছে। বিষয়টি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের প্রচলিত আইন, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং রাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থি। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন
জুলাইবিরোধী অবস্থান / ঢাবির ৬ অধ্যাপককে ‘অব্যাহতি’, বরখাস্ত হচ্ছেন সাদেকা হালিম
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর ৫৬(৩), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম স্ট্যাটিউটসের ৪৫(৩) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডিন্যান্স ও রেগুলেশন চ্যাপ্টার ২০-এর বিধি ১৩ অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড অশিক্ষকসুলভ ও নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। বিধি ১৩(২) অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরি থেকে অপসারণ বা বরখাস্তসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি-বিধান এবং দেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন
আওয়ামী লীগ আমলের সব শিক্ষক-কর্মকর্তার নিয়োগ পর্যালোচনা করবে ঢাবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুনর্ব্যক্ত করে যে, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, সংবিধান, আইন, বিচারিক সিদ্ধান্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদার পরিপন্থি কোনো কর্মকাণ্ডের প্রতি তাদের শূন্য সহনশীলতা নীতি অব্যাহত থাকবে। পরিচয় বা অবস্থান নির্বিশেষে আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি লঙ্ঘনকারী কেউ দায় এড়াতে পারবেন না।
একই সঙ্গে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
কেএসআর/








