উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা বর্ষণে নদীতে বেড়েছে পানি। সেইসঙ্গে বাড়তে শুরু করেছে ভূঞাপুর, রৌমারী, কালকিনি ও ইসলামপুরের নদীপারের মানুষের আতঙ্কও। ইসলামপুরসহ এসব এলাকায় অস্থায়ী জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের পরিবর্তে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে। যুগান্তর প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর : টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেখা দিয়েছে ভাঙন। ফলে নদীতে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও বাড়িঘর। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদীপারের মানুষ। সরেজমিন দেখা যায়, টাঙ্গাইলের গোপালপুরের যমুনা নদীর শাখারিয়া ও নলিন এলাকায় ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। টাঙ্গাইল সদর, ভূঞাপুর, কালিহাতী ও নাগরপুরের বেশ কয়েকটি এলাকায় বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে ভূঞাপুর-তারাকান্দি-আঞ্চলিক মহাসড়কও। ভাঙন রোধে টাঙ্গাইল জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতোমধ্যে শাখারিয়া অংশে আড়াই শতাধিক মিটার জিওব্যাগ ডাম্পিং করছে। তবে ভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী বাঁধসহ কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের। কুড়িগ্রামের রৌমারীতে এক দশকে ব্রহ্মপুত্রসহ রৌমারী-রাজিবপুরের ৬টি নদ-নদীর করাল গ্রাসে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। নদীতে বিলীন হয়েছে ১৫ হাজার একরেরও বেশি আবাদি জমি। এরপরও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি কাজের নামে দায়সারা জিওব্যাগ নিক্ষেপ ও অনিয়মতান্ত্রিক ডাম্পিংয়ের কারণে প্রতি বছরই মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে এ দুই উপজেলার গ্রামগুলো। স্থানীয়রা জানান, গত ১০ বছরে চরশৌলমারী, সোনাপুর, খেদাইমারী, সুখেরবাতি, ফুলুয়ারচর, পালেরচর, বকবান্ধা, চুলিয়ারচর, কোদালকাটি ও মোহনগঞ্জ এলাকার বিস্তীর্ণ এলাকা নদীতে হারিয়ে গেছে। ভিটামাটি হারানো এই বিশাল জনগোষ্ঠী বর্তমানে ছিন্নমূল জীবনযাপন করছেন। স্থায়ী পুনর্বাসন না থাকায় এসব বাস্তুচ্যুত মানুষ পাউবোর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পাশে, গ্রামীণ রাস্তার ধারে কিংবা অন্যের জমিতে ঝুপড়ি তুলে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। মাদারীপুরের কালকিনির আড়িয়াল খাঁ নদীর তীব্র ভাঙনের মুখে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন শত শত পরিবার। বুধবার দুপুরে সরেজমিন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছরের মতো এবারও বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে উপজেলার বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের খুনের চর, সাহেবরামপুর, কয়ারিয়া, মোল্লারহাটসহ নদী তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতি বর্ষা মৌসুমে প্রায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীভাঙন দেখা দেয়। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের খুনের চর এলাকায়। খুনের চর গ্রামের বাসিন্দা করিম মোল্লা বলেন, প্রতিবছর জিও ব্যাগ ফেলা হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই সেগুলো নদীর স্রোতে কার্যকারিতা হারায়। স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ছাড়া এ সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হবে না। জামালপুরের ইসলামপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন রোধে প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। মঙ্গলবার বিকালে ইসলামপুরের পলবান্ধা ইউনিয়ের ৩ নম্বর এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকাবাসীর উদ্যোগে দক্ষিণ সিরাজাবাদ নতুন পাড়া থেকে পূর্ব বাহাদুরপুর পর্যন্ত এলাকার সড়কে এ মানববন্ধন হয়। এ সময় বক্তারা বলেন, অব্যাহত ভাঙনের ফলে কয়েক শত পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে রয়েছে। তারা ভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।








