রায়পুরে একই পরিবারের মা ও তিন মেয়ে এবং গণপিটুনির শিকার হিন্দু যুবকের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি এখনো। ২৫ জুন রায়পুর পৌর শহরের ধানহাটা ডাকাতিয়া নদীর পার এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে কুপিয়ে হত্যা করা মা ও তিন মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। এ সময় অভিযুক্ত আটক অন্তর মজুমদারকে গণপিটুনি দেয় ক্ষুব্ধ জনতা। আহতাবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়। নিহত গৃহবধূ শাহিনুর বেগম (৩৮) এবং তার তিন মেয়ে সাইমা আক্তার (২০), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ফাতেমা আক্তার সিপা (৯) কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামের মৃত দিনমজুর কামাল হোসেনের পরিবার। ২৬ জুন শুক্রবার গ্রামের মেঘনা নদীর পারে কবরস্থানে দাফন করা হয় চারজনকে। গণপিটুনির শিকার অন্তর মজুমদার (৩০) নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার ছারামন উল্লাহ ইউনিয়নের চরফজলুল করিম গ্রামের সুজিৎ মজুমদার ও আম্পরি মজুমদারের ছেলে। অন্তর তার এলাকায় কয়েকজন তরুণীর সঙ্গে খারাপ আচরণের কারণে গ্রাম ও পরিবার থেকে বিতাড়িত। সে ইসকনের সদস্য ও বিবাহিত ছিল বলে চাচাতো ভাই টিটু মজুমদার মোবাইলে জানান।

পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, ২৫ বছর ধরে ফেরিওয়ালা কামাল হোসেন তার স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে রায়পুর ধানহাটা নদীর পারে স্কুল শিক্ষক আমির হোসেনের ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। কামাল হোসেন ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান। তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে দিন কেটে যাচ্ছিল শাহিনুরের। ঘাতক অন্তর মজুমদার একই ভবনের চারতলায় মুসলিম পরিচয়ে এক নারীকে নিয়ে ভাড়া থাকত। আচরণ ভালো না হওয়ায় ২০২৫ সালের মার্চ মাসে বাড়ির মালিক বের করে দেয় ফল বিক্রেতা অন্তর মজুমদারকে। ২৫ জুন সকালে ওই ভবনে শাহিনুর বেগমের বাসায় ঢুকে তাকেসহ তার তিন মেয়ে সাইমা আক্তার (২০), ইকরা বেগম (১৭) ও সিপাকে (৯) দা দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে অন্তর। এই সময় এক নারী ঘটনা বুঝতে পেরে বাইরে থেকে বাসার দরজা আটকে দেয়। ঘটনা বেগতিক দেখে ভবনের ছাদ দিয়ে পালানো সময় স্থানীয় লোকজন অন্তর মজুমদারকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। সংবাদ পেয়ে ওসি তদন্তের নেতৃত্বে পুলিশের টহল দল ঘটনাস্থলে এসে অন্তরকে উদ্ধার করলেও তাকে বাঁচাতে পারেনি। এ সময় ৭ পুলিশ আহত হন। এ ঘটনায় নিহতদের একমাত্র কলেজপড়ুয়া ছেলে জুনায়েদ ইসলাম (শিফাত) বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের নামে হত্যা মামলা এবং অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যায় ও এ সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে ৭ পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় এসআই আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা হয় রায়পুর থানায়। এ দুটি হত্যা মামলাই তদন্ত করছেন ওসি (তদন্ত) আবদুল মান্নান। নৃশংস ৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) আবদুল মান্নান বলেন, স্পর্শকাতর মামলা দুটি তদন্ত চলছে। এখন কিছুই বলা যাবে না।