বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে বৃহস্পতিবার রাতে পর্তুগালের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর রেফারিং নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রোয়েশিয়ার প্রধান কোচ জ্লাতকো দালিচ। নির্ধারিত সময়ে নিষ্পত্তি হওয়া এই ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার দুটি গোল বাতিল হয়, যার একটি আসে প্রায় শেষ মুহূর্তে।
সবচেয়ে বিতর্কিত ঘটনাটি ছিল বলের প্রযুক্তি (কানেক্টেড বল টেকনোলজি) ব্যবহার করে ক্রোয়েশিয়ার সমতাসূচক গোল বাতিল করা। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি দালিচ। পরিবর্তে তিনি নরওয়ের রেফারি এস্পেন এসকাসের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের কঠোর সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ‘ভিএআরের বিষয়টি ছিল, সেটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। আমি এ নিয়ে আর কিছু বলতে চাই না। তবে রেফারিং ছিল ভয়াবহ। আমাদের পক্ষে কোনো ফাউলই প্রায় দেওয়া হয়নি। রেফারিংয়ের দিক থেকে ম্যাচটি খুবই খারাপ ছিল। আমরা হেরেছি, কিন্তু এখন সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’
ম্যাচের শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘অতিরিক্ত সময়ে গোল হজম করলে পরিস্থিতি সামলানো খুব কঠিন হয়ে যায়। এরপর আপনি ঘুরে দাঁড়ান, গোল করেন, বিশ্বাস করেন গোলটি বৈধ, কিন্তু ভিএআরের মত ভিন্ন হয়। এটা মেনে নেওয়া সহজ নয়। তবু আমরা সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করে হেরেছি।’
দ্বিতীয়ার্ধেই ম্যাচের সব নাটকীয়তা ঘটে। ইভান পেরিসিচ গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে দেন এবং দল আরও কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। পরে পর্তুগাল সমতা ফেরায়। এরপর ক্রোয়েশিয়া একবার ক্রসবারে বল লাগায় এবং আরেকবার জালেও বল পাঠায়, কিন্তু অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়।
অতিরিক্ত সময়ে পর্তুগাল ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়সূচক গোল করে। এরপর ম্যাচের একেবারে শেষ আক্রমণে লুকা মদরিচদের দল সমতা ফেরালেও, বলের ভেতরে থাকা চিপ-ভিত্তিক প্রযুক্তি শনাক্ত করে যে এর আগে এক ক্রোয়েশিয়ান খেলোয়াড় বল স্পর্শ করেছিলেন। সেই স্পর্শের কারণে অফসাইডের সিদ্ধান্ত আসে এবং গোলটি বাতিল করা হয়।
দালিচ বলেন, ‘প্রথমার্ধে আমরা আরও ভালো খেলতে পারলে ম্যাচটা অন্যভাবে শেষ হতে পারতো। দ্বিতীয় গোলটি কীভাবে খেলাম, তা ব্যাখ্যা করাও কঠিন। আমাদের তিনজন ডিফেন্ডার ছিল, তবুও একজন সুযোগ পেয়ে গোল করল। পুরো ঘটনাটা ছিল আবেগে ভরা, সত্যিই নাটকীয়। এটাই জীবন, এটাই ফুটবল।’
২০১৭ সাল থেকে ক্রোয়েশিয়ার দায়িত্বে থাকা দালিচ দলকে ২০১৮ বিশ্বকাপে রানার্সআপ এবং ২০২২ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান এনে দিয়েছিলেন। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নেওয়ার পর ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
শেষে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, এটি একটি যুগের সমাপ্তি—অন্তত এই বিশ্বকাপের জন্য। এই বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে। আগামী চার বছরে কী হবে, আমি জানি না। দেশে ফিরে এ নিয়ে আলোচনা করব।’
আরআর/এমএমআর








