সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসক, মেডিকেল শিক্ষার্থী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গভীর রাতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি, সংঘর্ষের ঘটনায় তাদের বেশ কয়েকজন চিকিৎসক আহত হয়েছেন। এছাড়াও রোগীর স্বজনদের মধ্যে আরও চারজন আহত হয়েছেন।
ঘটনার প্রতিবাদ, হামলার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। একই সঙ্গে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের একাডেমিক শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এক শিশুরোগীকে নিয়ে কয়েকজন স্বজন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। এসময় দায়িত্ব পালনরত এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে গড়ায়।
মেডিকেল শিক্ষার্থীদের দাবি, রোগীর সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি বাইরে থেকে আরও লোকজন ডেকে এনে ওই ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা চালান। খবর পেয়ে অন্য ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। রাত পৌনে ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগ ও এর সামনের এলাকায় কয়েক দফা উত্তেজনা ও সংঘর্ষ চলে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক তাসপিয়ানুল হক নিলয় ও রেজা নিলয়। এছাড়া নগরের বালুচর এলাকার আবরার হোসেন নাবিল, জাহিদ, মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী এবং রোগীর এক স্বজন আহত হয়েছেন।
হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক রাকিন হান্নান জানান, আহত দুই ইন্টার্ন চিকিৎসকের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। অন্যজনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আহত রোগীর তিন স্বজনও হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে আমাদের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। হাসপাতালের পুলিশ বক্সে আরও পুলিশ সদস্য বাড়ানোর ব্যাপারেও কাজ করছেন।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় জরুরি বিভাগে থাকা রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এসময় হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। কয়েকজন শিক্ষার্থীকে লাঠি ও স্ট্যাম্প হাতে অবস্থান করতেও দেখা যায়।
ওসমানী হাসপাতাল পুলিশ বক্সের দায়িত্বরত সদস্য সালাহ উদ্দিন বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় চারজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদেরকে নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়েছে।
ঘটনার পর রাত আড়াইটার দিকে পৃথক বিবৃতি দেয় হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস ফোরাম ও ওসমানী মেডিকেল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। তাদের দাবি বাস্তবায়ন ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাইনুল জাকির বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ দেননি। বিষয়টি সমাধানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বৈঠক করছে। বিস্তারিত পরবর্তীতে জানানো হবে।
আহমেদ জামিল/এফএ/এএসএম








