রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ান এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে মালয়েশিয়া। এ লক্ষ্যে দেশটি আরও কৌশলগত ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে।
মালয়েশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক লুকানিসমান আওয়াং সাউনি বলেছেন, মিয়ানমারে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানাতে মালয়েশিয়া ধারাবাহিকভাবে আসিয়ানের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আসছে। একই সঙ্গে দেশটিতে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
আরও পড়ুন
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পার্লামেন্টে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাসহ শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের সংকট কেবল একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি অনিয়মিত অভিবাসন, মানবপাচার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মতো আন্তঃসীমান্ত সমস্যার সৃষ্টি করছে। তাই এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার অবস্থান মানবিক দায়বদ্ধতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে তিনি স্বীকার করেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান অর্জনে বিদ্যমান সহযোগিতার কার্যকারিতা এখনো সীমিত। কারণ আসিয়ান সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি এবং সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার কারণে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
এছাড়া ইউএনএইচসিআরের দায়িত্ব মূলত শরণার্থীদের সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তা প্রদান পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। সংস্থাটির রাজনৈতিক সংকটের মূল কারণ সমাধানের কোনো ম্যান্ডেট নেই। ফলে তাদের কার্যক্রম মানবাধিকার সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
মিয়ানমার সংকটে জাতিসংঘের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ মালয়েশিয়া
উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে মালয়েশিয়া আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগির কার্যকর ব্যবস্থা জোরদার এবং এমন রাজনৈতিক সমাধানকে উৎসাহিত করতে চায়, যাতে রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারেন।
দাতুক লুকানিসমান আওয়াং সাউনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার করবে না, বরং আন্তর্জাতিক পরিসরে শান্তি, নিরাপত্তা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি মালয়েশিয়ার অঙ্গীকারও আরও সুদৃঢ় করবে।
এমএমকে








