চট্টগ্রাম বিভাগে আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বাস্তবায়নাধীন একটি প্রকল্পের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে প্রায় ৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
বুধবার (২২ জুলাই) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে পরিচালিত ‘আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আর্থসামাজিক উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
আরও পড়ুন
শরণার্থী জীবন নয়, নিজ দেশে ফেরার আকুতি রোহিঙ্গাদের
জানা গেছে, এ প্রকল্পের জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত ছয়টি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রস্তাবপত্র আহ্বান করা হলে ছয়টিই কারিগরি প্রস্তাব জমা দেয়। এর মধ্যে তিনটি প্রস্তাব কারিগরি মূল্যায়নে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। পরবর্তী সব প্রক্রিয়া শেষে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ ও দর-কষাকষির মাধ্যমে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত এবং গ্রহণযোগ্য দরদাতা হিসেবে ‘পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র, ঢাকা’-কে ৪৫ কোটি ৬৮ লাখ ৮০ হাজার ৭০২ টাকায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় ২০২৪ সালের ২৮ মে অনুমোদিত হয়। এর বাস্তবায়নকাল ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।
আরও পড়ুন
টেকনাফে রোহিঙ্গা-টিটিপি সংযোগ: নতুন ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’ বাংলাদেশের
পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণের চাহিদা নিরূপণ, বাজার সম্ভাবনা মূল্যায়ন, প্রশিক্ষণ মডিউল প্রণয়ন এবং জীবিকাভিত্তিক কর্মসূচির উপকারভোগীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিভাগে আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের জীবিকা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে সহায়তা করা হবে।
এমএএস/এমকেআর








