জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে বৃক্ষরোপণ আমাদের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। গাছের চারা রোপণের পাশাপাশি প্রতিটি গাছের পরিচর্যার ওপরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। সেই দায়িত্ববোধের অংশ হিসেবে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের দুই হাজার চারা রোপণ করেছে প্রথম আলো বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদ। ২৬ জুন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের প্রবাসীপল্লিতে এগুলো রোপণ করা হয়। চারাগুলো পরিচর্যার দায়িত্ব নিয়েছে প্রবাসীপল্লি।
কর্মসূচিতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ প্রকল্পের জাতীয় সেলের সদস্য ও কারিগরি বিশেষজ্ঞ জামাইল বশীর জেবি। তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিবছর বন্ধুসভা বৃক্ষরোপণ করে আসছে। এ জন্য তাদের ধন্যবাদ। তবে গাছ লাগানো কিন্তু সহজ একটি কাজ। আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে গাছ লাগানোর পরের দিন থেকে। নিয়মিত এই চারাগুলোর পরিচর্যা করতে হবে।’ পরে তিনি বন্ধুসভার সদস্যদের সঙ্গে চারা গাছ রোপণ করেন।

বর্তমান সরকারের একটি প্রতিশ্রুতি—৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, গাছ থেকে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান—সবকিছু মিলিয়ে এ কর্মসূচি। এ বিষয়ে জামাইল বশীর জেবি বলেন, ‘এটা শুধু সরকারের একক কর্মসূচি নয়। দল–মতনির্বিশেষে সবাইকে গাছ লাগানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে সবাই সুফল পাবে। বন্ধুসভা যেহেতু নিয়মিত গাছ লাগায়; আমাদের এই ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও বন্ধুসভাকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাই।’
‘বৃক্ষ শুধু রোপণ নয়, যত্ন নিয়ে বাঁচাতে হয়’ প্রতিপাদ্যে দেশব্যাপী চলছে প্রথম আলো বন্ধুসভার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। জুন মাস থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলবে আগস্ট পর্যন্ত। সারা দেশের শতাধিক বন্ধুসভা এ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে। এ বছর এরই মধ্যে বিভিন্ন বন্ধুসভা গাছ রোপণ করেছে। অন্যান্য বন্ধুসভাও গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। বন্ধুসভার সদস্যরা নিজেদের ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অর্থে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ ছাড়া ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স প্রায় ২০ হাজার গাছের চারা দিয়ে সহযোগিতা করেছে।

এ বিষয়ে বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের সভাপতি জাফর সাদিক বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পরিবেশকে বাঁচানো এবং পরিবেশের জন্য আমাদের জায়গা থেকে পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে যা যা করা দরকার, তা করা। পৃথিবীকে আমরা যতটুকু পেয়েছি, তার থেকে আরেকটু ভালো রেখে যাওয়াটাই আমাদের কাজ। সেই দায়িত্ববোধের অংশ হিসেবে বন্ধুসভা বৃক্ষরোপণের এই মহৎ কাজ করছে।’
গাছ লাগানো মানে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা। সারা দেশে বন্ধুসভা যে কাজটি করছে, তা সেই ভারসাম্য রক্ষায় বড় অবদান রাখছে বলে মনে করেন প্রবাসীপল্লি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মুহিদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বন্ধুসভার এই মহৎ কাজ প্রশংসার যোগ্য।’

বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের নির্বাহী সভাপতি ফরহাদ হোসেন মল্লিক বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে বৃক্ষরোপণ আমাদের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্বের জায়গা থেকে বন্ধুসভার প্রত্যেক সদস্য গাছ রোপণ এবং পরিচর্যা করে থাকেন।’
এ বছর সারা দেশে বন্ধুসভার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সমন্বয় করছেন জাতীয় পর্ষদের দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক নাফিউর নূর। তিনি বলেন, ‘আমরা দেশব্যাপী স্থানীয় বন্ধুসভাগুলোকে পরিবেশ ও প্রয়োজন বিবেচনা করে দেশীয় ফলদ, ঔষধি ও বনজ গাছ রোপণের পাশাপাশি সেগুলোর নিয়মিত পরিচর্যার ওপরও গুরুত্ব দিতে উৎসাহিত করছি। আমরা বিশ্বাস করি, বন্ধুসভার এই উদ্যোগ তরুণদের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক সচেতনতা তৈরি করবে।’

কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের উপদেষ্টা মাহবুব পারভেজ ও আশিকুজ্জামান অভি, সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী ফিরোজ ও নূর ই আলম, সাধারণ সম্পাদক সাইমুম মৌসুমী বৃষ্টি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বুশরা, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক আশফাকুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদ ইমাম, অর্থ সম্পাদক শাকিব হাসান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আশফাকুর রহমান, প্রশিক্ষণ সম্পাদক ফারহান সাকিব, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সম্পাদক মাহফুজার রহমান, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক হুসাইন আল মামুন, কার্যনির্বাহী সদস্য নাঈমা সুলতানা ও আবরার জাহিন, ঢাকা মহানগরের সভাপতি হাসান মাহমুদ সম্রাট, সহসভাপতি রাজা মান্নান তালুকদার ও মামুন হোসাইন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেঘা খেতান, দপ্তর সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর হাসান, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক জাকিয়া লিমা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাদিকুর রহমান, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মুর্শিদা খাতুন এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মৌরি বিনতে আজাদ। এ ছাড়া প্রবাসীপল্লির পক্ষ থেকে প্রশাসন ও নিরাপত্তা বিভাগের মহাব্যবস্থাপক জাহিদ ইকবাল তিতাস, বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক রাশেদুল ইসলাম, সহকারী মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) রিয়াদ হোসাইন সরদারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।









