মো. রেজাউল ইসলাম পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। সম্প্রতি তিনি ৪৭তম বিসিএসে কৃষি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাঁর ক্যাডার পছন্দের তালিকায় ছিল যথাক্রমে প্রশাসন, পুলিশ, কাস্টমস, ট্যাক্স, অডিট ও কৃষি। প্রায় ১৫ মিনিটের ভাইভার অভিজ্ঞতা তিনি শুনিয়েছেন আজকের পত্রিকাকে।

প্রথম এক্সটার্নাল: ট্যাক্স ও ভ্যাট বলতে কী বোঝেন?

রেজাউল: ট্যাক্স হলো সরকার কর্তৃক জনগণের আয়, সম্পত্তি বা ব্যবসার ওপর আরোপিত বাধ্যতামূলক ফি। অন্যদিকে ভ্যাট হলো মূল্য সংযোজন কর। এটি একধরনের পরোক্ষ কর।

প্রথম এক্সটার্নাল: ভ্যাট (VAT)-এর পূর্ণরূপ কী?

রেজাউল: ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স।

প্রথম এক্সটার্নাল: ভ্যালু অ্যাডেড কেন বলা হয়?

রেজাউল: স্যার, এটি পণ্য বা সেবার উৎপাদন ও বিক্রয়ের প্রতিটি স্তরে নির্দিষ্ট হারে আরোপিত হয়। এ জন্য একে মূল্য সংযোজন বা ভ্যালু অ্যাডেড বলা হয়।

প্রথম এক্সটার্নাল: এই ভ্যালু অ্যাড কীভাবে হয়?

রেজাউল: স্যার, একটি পণ্য বা সেবার উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে কাঁচামাল বা ক্রয়ের ওপর ধীরে ধীরে মূল্য সংযোজন হয়।

প্রথম এক্সটার্নাল: শেষ পর্যন্ত কাদের ওপর এই ভ্যালু অ্যাড হয়?

রেজাউল: স্যার, ভ্যাট শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত ভোক্তা, অর্থাৎ সাধারণ ক্রেতার ওপর পড়ে।

প্রথম এক্সটার্নাল: আপনি বললেন, ভ্যাট পরোক্ষ কর। তাহলে প্রত্যক্ষ কর কী? পরোক্ষ কর থেকে একে কীভাবে আলাদা করবেন?

রেজাউল: স্যার, যে কর সরাসরি ব্যক্তির আয়, সম্পত্তি বা মুনাফার ওপর ধার্য করা হয় এবং যার ওপর ধার্য করা হয়, তাকেই তা পরিশোধ করতে হয় (যেমন—আয়কর)। অন্যদিকে পরোক্ষ কর হলো, যে কর সরাসরি না নিয়ে পণ্য বা সেবা বিক্রয়ের ওপর ধার্য করা হয় (যেমন ভ্যাট)।

প্রথম এক্সটার্নাল: What is Corruption?

রেজাউল: Corruption generally refers to the illegal approach, misuse of power for private or personal gain.

চেয়ারম্যান: সহশিক্ষা কার্যক্রমে কী কী করেছেন?

রেজাউল: স্যার, ছোট থেকে স্কাউট ও স্বেচ্ছাসেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনাকালীন বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে ছিলাম।

চেয়ারম্যান: আপনি পরিবারে কী এমন ভূমিকা রেখেছেন, যা আপনার বন্ধুরা কেউ রাখেননি?

রেজাউল: স্যার, আমি স্কাউটের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, ছোট থেকে নিজে আয় করা শিখেছি। পরিবারে আর্থিকভাবে সাহায্য করার চেষ্টা করেছি।

চেয়ারম্যান: কত বছর স্কাউটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?

রেজাউল: প্রায় সাত বছর (স্কাউট ও রোভার স্কাউট মিলিয়ে)।

চেয়ারম্যান: সংগঠন করতে গিয়ে কি কোনো ধরনের ঝুঁকি বা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন কখনো?

রেজাউল: স্যার, বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আমিই বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করি। কাজ ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে। প্রতি মাসে একজন করে মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে এসে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতাম এবং তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা শেয়ার করতেন। প্রোগ্রাম শেষে কুইজের ব্যবস্থা থাকত, পাশাপাশি পুরস্কারের ব্যবস্থাও ছিল। একদিন আমন্ত্রিত অতিথি ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে না আসায় আমরা বিপদে পড়ে যাই।

চেয়ারম্যান: পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দিলেন?

রেজাউল: স্যার, ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বয়োজ্যেষ্ঠ শিক্ষককে এনে প্রোগ্রাম কন্টিনিউ করি।

চেয়ারম্যান: সবাইকে কীভাবে ম্যানেজ করলেন? সবাই কেন আপনার কথা শুনল?

রেজাউল: আমাদের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরি। এমন পরিস্থিতির জন্য সবার কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করি। সবাইকে বুঝিয়ে বলি।

চেয়ারম্যান: এমন প্রোগ্রাম আয়োজন করতে তো আর্থিক ব্যাপার থাকে। এই আর্থিক দিক কীভাবে পরিচালনা করেছেন?

রেজাউল: প্রতি মাসে সদস্যরা ২০ টাকা করে চাঁদা দিত।

চেয়ারম্যান: সদস্যসংখ্যা কত ছিল?

রেজাউল: ৩২ জন।

চেয়ারম্যান: চাঁদার ব্যবস্থাপনা কীভাবে করতেন?

রেজাউল: একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। তিনই আর্থিক খাত পরিচালনা করতেন। মাসিক সভায় তিনি আয় ও খরচের হিসাব তুলে ধরতেন।

চেয়ারম্যান: পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের দক্ষতা বাড়াতে কিছু করেছেন?

রেজাউল: জি স্যার।

চেয়ারম্যান: কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন?

রেজাউল: স্যার, আমি ছোট থেকে লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত। আমি দৈনিক পত্রিকায় ফিচার লিখি। এ ছাড়া ইতিমধ্যে একুশে বইমেলায় আমার তিনটি বই প্রকাশিত হয়েছে।

চেয়ারম্যান: কী কী বই প্রকাশিত হয়েছে?

রেজাউল: স্যার, সাকসেস সিস্টেম দ্যাট নেভার ফেইলস, দ্য সেভেন ডেজ স্টার্টআপ এবং ১০০ তরুণের গল্প নামে আমার তিনটি বই প্রকাশিত হয়েছে।

চেয়ারম্যান: এই দক্ষতা বাড়াতে কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ বা কোর্স করেছেন?

রেজাউল: পত্রিকায় ফিচার লেখার বিষয়ে বেশ কিছু কোর্স করেছি।

দ্বিতীয় এক্সটার্নাল: মো. রেজাউল ইসলাম, আপনি তো জেনেটিকস অ্যান্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং-এ এমএসসি সম্পন্ন করেছেন। বলেন তো, জেনেটিক ডাইভারসিফিকেশন কী?

রেজাউল: স্যার, জেনেটিক ডাইভারসিফিকেশন হলো জিনগত বৈচিত্র্য। অর্থাৎ প্রজাতির সদস্যদের জিনগত গঠন বা জেনেটিক সিকোয়েন্সের মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্য।

দ্বিতীয় এক্সটার্নাল: ২০২২ সালে পাস করেছেন, এখন কিছু করছেন?

রেজাউল: জি স্যার। আমি জনতা ব্যাংককে কর্মরত এবং সোনালী ব্যাংককে অফিসার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত।

দ্বিতীয় এক্সটার্নাল: আইএফসি নামে একটা প্রতিষ্ঠান আছে। শুনেছেন কখনো?

রেজাউল: হ্যাঁ, স্যার শুনেছি।

দ্বিতীয় এক্সটার্নাল: আইএফসি ও আইএমএফ—এই দুটি প্রতিষ্ঠানের কাজ কী?

রেজাউল: স্যার, আইএফসি বিশ্বব্যাংক গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে অর্থায়ন ও পরামর্শ দিয়ে থাকে। অন্যদিকে আইএমএফ হলো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। এর প্রধান কাজ হলো বিশ্বব্যাপী আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা এবং সদস্য দেশগুলোকে অর্থনৈতিক সংকটে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা দেয়। তবে আইএমএফের ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু শর্তাবলি মানতে হয়।

দ্বিতীয় এক্সটার্নাল: আইএফসি কাকে ঋণ দেয়?

রেজাউল: স্যার, আইএফসি সরকারকে ঋণ দেয়। (আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভুল উত্তর দিয়েছি। আইএফসি বেসরকারি খাতের উন্নয়নে সহায়তা করে থাকে।)

দ্বিতীয় এক্সটার্নাল: আইএমএফ ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কী ধরনের শর্তাবলি আরোপ করে?

রেজাউল: স্যার, আইএমএফ বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে ঋণ পেতে দেশকে কাঠামোগত ও অর্থনৈতিক সংস্কারের বিভিন্ন কঠোর শর্ত পূরণ করতে হয়। সাধারণত সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, রাজস্ব খাতের উন্নতি এবং আর্থিক খাতের সুশাসন নিশ্চিত করতে জোর দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় এক্সটার্নাল: জেলায় উন্নয়নমূলক সভা হয়, জানেন?

রেজাউল: হ্যাঁ স্যার, জানি।

দ্বিতীয় এক্সটার্নাল: সেখানে কারা উপস্থিত থাকে? কী করা হয়, বলেন তো?

রেজাউল: স্যার, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সভাপতিত্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা পুলিশের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্য স্টেকহোল্ডার উপস্থিত থাকেন। সেখানে জেলার উন্নয়নমূলক কাজের তদারকি ও সরকারি প্রকল্পগুলোর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

দ্বিতীয় এক্সটার্নাল: CrPC-এর অধীনে বিভিন্ন ধারা রয়েছে। সেগুলো বলতে পারবেন?

রেজাউল: হ্যাঁ, স্যার। CrPC-এর অধীনে মোট ৫৬৫টি ধারা আছে। এর মধ্যে ৫৪ ধারায় বিনা ওয়ারেন্টে পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তারের ক্ষমতা, ১৪৪ ধারায় জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জরুরি প্রয়োজনে নিষেধাজ্ঞা জারি, ১৫৪ ধারায় এফআইআর দায়েরের নিয়ম, ১৫৬ ধারায় পুলিশের তদন্ত করার ক্ষমতা এবং ১৬১ ও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের কথা বলা হয়েছে।

দ্বিতীয় এক্সটার্নাল: ১৬১ ধারায় কার কাছে জবানবন্দি রেকর্ডের কথা বলা হয়েছে?

রেজাউল: স্যার, ১৬১ ধারায় পুলিশের কাছে সাক্ষীদের জবানবন্দি রেকর্ডের কথা বলা হয়েছে।

দ্বিতীয় এক্সটার্নাল: আপনি পুলিশ ক্যাডার দ্বিতীয় চয়েস হিসেবে রেখেছেন। ধরুন, আপনি অপারেশনে গেলেন। তখন শত্রু আপনার ঠিক সামনে। সে সামনে এসে গুলি তাক করলে কী করবেন?

রেজাউল: স্যার, আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে পদক্ষেপ নেব।

দ্বিতীয় এক্সটার্নাল: আপনি তো সেই সময়ই পাবেন না। আপনাকে তো সে গুলি করে দেবে।

রেজাউল: স্যার, আমি আইনের মধ্যে থেকে পদক্ষেপ নেব।

দ্বিতীয় এক্সটার্নাল: (মুচকি হাসি দিলেন।)

চেয়ারম্যান: আপনাকে ধন্যবাদ। আপনি এবার আসুন।