জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সার্ভার হ্যাক করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কোটি টাকার পণ্য খালাস, জন্মনিবন্ধন-এনআইডি ক্লোন করে কোভিড সনদ প্রদান, ভূমিকরের রসিদ তৈরিসহ সাইবার অপরাধের সঙ্গে জড়িত চক্রের মূল হোতা শেখ সেজান অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে। ১৫ জুলাই ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে নেপাল পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট তাকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার তার গ্রেফতার এবং অপকর্মের ফিরিস্তি তুলে ধরতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ফয়সাল আহমেদ সেজানসহ জড়িত চক্রটির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

জানা যায়, একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মিথ্যা ঘোষণায় ১১ হাজার ৬৭৬ লিটার বিদেশি মদ ও ৫০ লাখ শলাকা বিদেশি সিগারেট নিয়ে এসেছিল। ধরা পড়ার পর সেই চালান আটকে দেয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এনবিআরের সার্ভার হ্যাক করে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সেই চালান বন্দর থেকে বের করে নেয়ার চেষ্টা করে চক্রটি। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলা তদন্ত করতে গিয়ে সেজান ছাড়াও সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, সেজান সংশ্লিষ্ট শুল্ক কর্মকর্তাদের ইউজার আইডি ব্যবহার করে শুল্কায়ন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে প্রবেশ করত। পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে নির্ধারিত পণ্যটির খালাস নিশ্চিত করত। এভাবে বিভিন্ন সময়ে কোটি টাকার পণ্যের চালান শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বের হয়ে গেছে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে। এছাড়া বিভিন্ন সেবার ভুয়া পোর্টাল তৈরি করে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে অর্থ হাতিয়ে নিত সে। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় সাইবার অপরাধ ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৭টি মামলা রয়েছে।