বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সতর্ক অবস্থানে আর্জেন্টিনা। তবে সেই সতর্কতার মাঝেও আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছে না বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দলের কোচিং স্টাফের সদস্য ওয়াল্টার সামুয়েলের মতে, সুইজারল্যান্ড কঠিন ও শারীরিকভাবে শক্তিশালী একটি দল হলেও নিজেদের সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছে আর্জেন্টিনা।

সেমিফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে আগামী ১২ জুলাই বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা। তার আগে সুইসদের শুধু শারীরিক শক্তিনির্ভর দল হিসেবে দেখছে না ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। ইউরোপের দলটি যে বল নিয়ন্ত্রণ, সংগঠিত ফুটবল এবং রক্ষণভাগ থেকে আক্রমণ গড়ে তুলতেও সক্ষম, সে ধারণাও আছে আর্জেন্টিনার।

সামুয়েল বলেন, ‘তারা (সুইজারল্যান্ড) কঠিন এবং শারীরিকভাবে শক্তিশালী একটি দল। তবে তাদের দলে অনেক মানসম্পন্ন খেলোয়াড়ও আছে। জাকা, আকাঞ্জি... পেছন থেকেই ভালোভাবে বল খেলতে পারে এমন খেলোয়াড় তাদের আছে। তারা বল দখলে খুবই শান্ত থাকে এবং দারুণ সংগঠিত একটি দল।’

প্রতিপক্ষের শক্তি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলেও ম্যাচের প্রস্তুতিতে নিজেদের খেলার ধরনকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে আর্জেন্টিনা। কাতার বিশ্বকাপ জেতার পথে যে ফুটবল দর্শন দলটিকে সাফল্য এনে দিয়েছে, সেই পরিচয় ধরে রেখেই এগোতে চায় স্কালোনির শিষ্যরা। সামুয়েল বলেন, ‘আমরা প্রতিপক্ষকে বিশ্লেষণ করি, তবে নিজেদের খেলাটাও মাথায় রাখি।’ সামুয়েলের এই মন্তব্যেই ফুটে ওঠে আর্জেন্টিনার প্রস্তুতির মূল দর্শন—প্রতিপক্ষকে সর্বোচ্চ সম্মান, কিন্তু নিজেদের সামর্থ্য ও পরিচয়ের প্রতি অটুট বিশ্বাস।

বিশ্বকাপের শেষ আটে জায়গা করে নেওয়ার পর এখন ফাইনালের স্বপ্নও দেখছে আলবিসেলেস্তেরা। সেই লক্ষ্য পূরণে এক ধাপ করে এগোনোর ওপরই জোর দিচ্ছেন সামুয়েল, ‘ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা নিয়ে আমরা রোমাঞ্চিত। তবে আমাদের ধাপে ধাপে এগোতে হবে। সামনে সুইজারল্যান্ডের মতো খুব কঠিন একটি প্রতিপক্ষ, তাই আগে সেই চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে। তারপরও আমরা আশাবাদী, আমাদের লক্ষ্য পূরণ করে ফাইনালে উঠতে পারব। সেটা হবে অসাধারণ। আর এরপর সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হবে।’