হ্যাটট্রিক নেই, কিন্তু জোড়া গোল আছে। একবার নয়, তিন–তিনবার। আর তাতেই গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে নতুন রোমাঞ্চ যোগ করলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।
গ্রুপ পর্ব শেষে আলোটা ছিল লিওনেল মেসির দিকে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল আর জর্ডানের বিপক্ষে বদলি নেমে এক গোল—মোট ছয় গোল নিয়ে আর্জেন্টিনা অধিনায়কই ছিলেন গোল্ডেন বুট লড়াইয়ে শীর্ষে। কিন্তু নকআউটের মঞ্চে এসে সেই আলো নিজের দিকে টেনে নিলেন ফ্রান্সের এমবাপ্পে।
রাউন্ড অব থার্টি টু ম্যাচে সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করে এমবাপ্পে শুধু ফ্রান্সকে শেষ ষোলোতেই তোলেননি, গোলসংখ্যাতেও ছুঁয়ে ফেলেছেন মেসিকে। সুইডেনের আগে গ্রুপ পর্বে সেনেগাল ও ইরাকের বিপক্ষেও জোড়া গোল করেছিলেন তিনি।
সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সুইডেনের বিপক্ষেও করলেন আরও দুটি। ফলে চার ম্যাচ শেষে এমবাপ্পের গোলও এখন ছয়। অর্থাৎ মেসি ও এমবাপ্পে দুজনের গোলসংখ্যা এখন ছয়। তবে গোল সমান হলেও এমবাপ্পের অবস্থান মেসির ওপরে।
ফিফার নিয়মে একাধিক খেলোয়াড় সমান গোল করলে প্রথমে বিবেচনায় আসে অ্যাসিস্ট। সেখানে এগিয়ে এমবাপ্পে। ফরাসি অধিনায়কের দুটি অ্যাসিস্ট আছে, মেসির নেই।
এমবাপ্পের সঙ্গে রাতটা দেশম আর ওলিসেরওটুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পে যদি এই শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারেন, তবে তিনি হবেন বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা দুই আসরে গোল্ডেন বুট জেতা প্রথম খেলোয়াড়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ৮ গোল করে এই পুরস্কার জিতেছিলেন ফরাসি অধিনায়ক।
তবে লড়াইটা এখনো অনেক বাকি। মেসির হাতে আছে কেপ ভার্দের বিপক্ষে রাউন্ড অব থার্টি টুর ম্যাচ। অন্যদিকে ফ্রান্স শেষ ষোলোয় উঠে যাওয়ায় এমবাপ্পেও নিশ্চিতভাবেই অন্তত আরও একটি ম্যাচ খেলবেন। ফলে গোল্ডেন বুটের শীর্ষস্থান আরও কয়েকবার হাতবদল হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
এমবাপ্পে–মেসির পেছন পেছন আছেন গোল্ডেন বুটের আরও কয়েকজন দাবিদার। চার ম্যাচে ৫ গোল করে তৃতীয় স্থানে নরওয়ের আর্লিং হলান্ড, যাঁর পরের ম্যাচ ব্রাজিলের বিপক্ষে। এমবাপ্পের সতীর্থ উসমান দেম্বেলের আছে ৪ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট। আর নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোয় খেলতে যাওয়া ব্রাজিলের হয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রেরও আছে ৪ গোল, সঙ্গে ১ অ্যাসিস্টও।
গোল্ডেন বুট তালিকার শীর্ষ পাঁচ দাবিদারের দলই এখনো টুর্নামেন্টে টিকে আছে। যার অর্থ, এই লড়াই সামনে আরও তীব্রতর হতে চলেছে।
মেসিকে ছুঁয়ে মেসির ঘাড়ে এমবাপ্পের নিশ্বাস







