বর্তমান সরকার কোনো গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করছে না বলে দাবি করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে গণমাধ্যম সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে গণমাধ্যমকে আমরা কোনো রকম কন্ট্রোল করতে চাচ্ছি না, করছিও না।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে এনসিপির সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমানের অনুপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী সংসদে প্রশ্নের জবাব দেন।

এর আগে এনসিপির সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, সংসদে একদিন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে ভোট না দিতে বলেছিলেন স্পিকার। এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর কোনো কারণে অনেক গণমাধ্যম সেটা সরিয়ে ফেলা হয়।

সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলেকে নিয়ে ডেইলি ওয়াদা সংবাদ প্রকাশ করলে সেই সংবাদটিও ওই মিডিয়া সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। পাশাপাশি চ্যানেল ওয়ানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলমকে নিয়ে একটা বড় প্রতিবেদন করলে, সেই চ্যানেল ওয়ানের ওই প্রতিবেদনটি সাইবার অ্যাটাকের শিকার হয় এবং অনেক দিন এই প্রতিবেদনটি পাওয়া যায়নি। এই ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে বা সরকারের মন্ত্রীদের পক্ষের বিরুদ্ধে কোনো নিউজ করলে যে সাইবার অ্যাটাক হচ্ছে-প্রতিবেদন সরিয়ে নেওয়ার যেই নিউজগুলো আমরা দেখতে পাই, এতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে সরকার কি মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে গলা চিপে ধরছে কি না? এই ব্যাপারে আমাদের তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রীর ব্যাখ্যা জানতে চাই।

জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সংবাদমাধ্যম স্বাধীন। তারা কোন নিউজ আপলোড করবেন, কোন নিউজ ডাউনলোড করবেন, কোন নিউজ ছাপাবেন, কোন নিউজ ছাপাবেন না, এটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করে না। কেউ যদি কোনো সংবাদ পরিবেশন করার পরে বুঝতে পারেন যে সংবাদটা সঠিক নয় বা সংবাদটা পরিবেশন করা উচিত নয় সেই ক্ষেত্রে তারা অবশ্যই খবরটা সরিয়ে নিতে পারেন। সেই বিষয়ে আমরা হস্তক্ষেপ করি না এবং আমরা সংবাদ স্বাধীনতা বিশ্বাস করি বলেই আমরা হস্তক্ষেপ করব না।’

সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সুলতানা জেসমিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের অনেক সাংবাদিক প্রেসক্লাবে অন্তর্ভুক্ত আছেন। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। যে কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক দর্শন থাকতে পারে, আদর্শ থাকতে পারে। তবে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে তারা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা আশা করি এবং বিভিন্ন ফ্যাক্ট চেকিং এর মাধ্যমে আমরা অপতথ্য, মিথ্যা তথ্য, অসত্য তথ্য ভুয়া তথ্য যেগুলা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আছে-মিসইনফরমেশন এবং ডিজইনফরমেশন আমরা কীভাবে এটা রোধ করতে পারি, সেই বিষয়ে আমাদের মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে।

সরকার দলের এস এম জাহাঙ্গীর আলমের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, প্রেস কাউন্সিল আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিতে অভিযোগ করে বিচার করার সুযোগ নেই। অভিযোগ প্রমাণ হলে শুধু সতর্ক, ভর্ৎসনা ও তিরস্কার করতে পারে। অনলাইন সংবাদপত্র ও সাংবাদিক প্রেস কাউন্সিল আইনের এখতিয়ারভুক্ত নয় বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

ফেনী-২ আসনের জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫২ তম, ভারতের অবস্থান ১৫৭ তম ও পাকিস্তানের অবস্থান ১৫৩ তম।

সিলেট-৫ আসনের মোহাম্মদ আবুল হাসানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অনুমোদিত ৫৬টি বেসরকারি টেলিভিশনের মধ্যে ৩৯টি সম্প্রচারে রয়েছে। ২৮টি এফ. এম রেডিওর মধ্যে ২১টি সম্প্রচারে রয়েছে। দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত ৩ হাজার ৩৯৩টি পত্র-পত্রিকা রয়েছে।