সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ফেনী জেলা প্রশাসন। বিভিন্ন উপজেলায় ২২৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী, উদ্ধার সরঞ্জাম ও নৌযান মজুত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতিকে সামনে রেখে গত ৮ জুলাই জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ৮০টি স্থায়ী ও ১৪৪টি অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ২২৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করতে উপজেলার বোটের সংখ্যা বাড়িয়ে ৯৩টিতে উন্নীত করা হয়েছে। দ্রুত স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনের লক্ষ্যে উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের তালিকা জেলা কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফেনী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মাহবুব আলম বলেন, বর্তমানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মজুতকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে শুকনা ও অন্যান্য খাবার ১ হাজার ১৫০ প্যাকেট। এছাড়াও প্রতিটি উপজেলায় অতিরিক্ত জরুরি শুকনা খাবারের ব্যাগ ও বস্তা মজুত রয়েছে।
তিনি বলেন, এর মধ্যে ত্রাণ কার্য (চাল) ১০০ মেট্রিক টন, নগদ অর্থ ৫ লাখ টাকা, তেরপল ৫৯৫ পিস, বিশুদ্ধ পানির জন্য জেরিক্যান ৪৬৮ পিস, সচেতনতা ও সতর্কবার্তা প্রচারের জন্য হ্যান্ড মাইক ২০ পিস, রেইনকোট ১০০ পিস, গামবুট ২১৪ জোড়া, লাইফ জ্যাকেট ৩৫৭ পিস ও টর্চলাইট ১৩৭ পিস।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে শিশু খাদ্য, গো-খাদ্য ও ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির সাময়িক মেরামতের জন্য ঢেউটিন পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুকূলে বরাদ্দকৃত বিশেষ অর্থ ও খাদ্যশস্য (চাল) উপজেলাগুলোতে পাঠানো হয়েছে, যেন যেকোনো জরুরি মুহূর্তে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে দ্রুত সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হয়।
এ বিষয়ে ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক সর্বস্তরের জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখতে সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
আবদুল্লাহ আল-মামুন/কেএইচকে/জেআইএম








