নরসিংদীর রায়পুরার মেথিকান্দা রেলস্টেশনে হামলা ও লুটের শিকার হয়ে মারা যাওয়া বাকপ্রতিবন্ধী পরিচ্ছন্নতাকর্মী ববি বেগমের (৭০) মৃত্যু ও সঞ্চিত টাকা লুটের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
বাহিনীটি বলছে, বৃদ্ধা ববির কাছে থাকা দীর্ঘদিনের সঞ্চিত ২০ হাজার টাকার জন্য তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। র্যাবের ধারণা, মাদকের টাকার জন্য তারা এই ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।
গ্রেফতাররা হলেন- ইলিয়াস (৩৫), সাকিব (১৯), বেলাল মিয়া (২৬), দ্বীন ইসলাম (২৬) ও রিফাত (২০)।
আরও পড়ুন
নরসিংদীতে বাকপ্রতিবন্ধী ববি বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার ৬
গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে নরসিংদী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত ৪ জুলাই গভীর রাতে মেথিকান্দা রেলস্টেশনের এক পরিত্যক্ত কক্ষে অবস্থানরত ববি বেগমের ওপর হামলা চালিয়ে দুর্বৃত্তরা তাকে গুরুতর আহত করেন। এ সময় তার দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত ও সঞ্চিত প্রায় ২০ হাজার টাকা লুট করে নেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ৮ জুলাই রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ভৈরব রেলওয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার পর ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব-১১।
গোয়েন্দা তথ্য, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়।
আরও পড়ুন
টাকার জন্য হামলা, বাকপ্রতিবন্ধী সেই ববি আর নেই
র্যাব-১১-এর একটি দল নরসিংদীর মেথিকান্দা রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে। একই সময়ে র্যাব-৯-এর আরেক দল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কাইতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের নতুন ঈদগাহ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে গ্রেফতার করে।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা জানিয়েছেন, বৃদ্ধা ববি বেগমের কাছে নগদ অর্থ রয়েছে- এ তথ্য আগে থেকেই তাদের জানা ছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী গভীর রাতে বৃদ্ধার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে প্রায় ২০ হাজার টাকা লুট করে পালিয়ে যান তারা। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ববি বেগমের মৃত্যু হলে ঘটনাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।

এক প্রশ্নের জবাবে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ পারভেজ বলেন, গ্রেফতার পাঁচজনের মধ্যে তিনজের বিরুদ্ধে আগে থেকেই মাদকের মামলা রয়েছে। তারা মাদকাসক্ত। ধারণা করা হচ্ছে, মাদকের টাকার প্রয়োজন ছিল বলে তারা এ ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।
র্যাব জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে নতুন কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
রেল স্টেশন ও রেলে অপরাধীদের আনাগোনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে র্যাবে মুখপাত্র উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, রেলপথের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখার জন্য রেলওয়ে পুলিশ রয়েছে। তারা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন। এরপরও যদি কখনো কোনো ঘটনা আমাদের নজরে আসে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গ্রেফতার পাঁচ আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ভৈরব রেলওয়ে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে র্যাব।
টিটি/কেএসআর








