সরকারি অর্থ জমা দিলেন ভূরুঙ্গামারীর শিক্ষা কর্মকর্তা

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর ভোটকেন্দ্র মেরামতের জন্য উত্তোলকৃত বরাদ্দের অর্থ পাঁচ মাস অতিবাহিত করে সরকারি কোষাগারে বাধ্য হয়ে ফেরত দিয়েছেন। জানা গেছে, গত সংসদ নির্বাচনে উপজেলার ২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্র মেরামতের জন্য ২০ লাখ ৬০ হাজার এক টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। কিন্তু উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আখতারুল ইসলাম ভোটহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বরাদ্দ (দুই দফায়) এক লাখ ৫০ হাজার ও দক্ষিণ চরভূরুঙ্গামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ এক লাখ টাকা উত্তোলন করে বিদ্যালয় দুটিকে প্রদান না করে সমুদয় টাকা নিজের কাছে রেখে দেন। শুধু তাই নয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পিইডিপি-৪ প্রকল্প ও স্লিপ প্রকল্পে উপজেলার ১১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য মোট ১৭ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওই টাকা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে উত্তোলন করে নিজ অ্যাকাউন্টে রাখেন। পরবর্তীতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা উৎকোচের বিনিময়ে মাত্র ২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রত্যেকটিকে ১২ হাজার টাকার চেক (ভ্যাট কর্তন করে) প্রদান করেন। অন্য ৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা উৎকোচ প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা টাকা প্রদান থেকে বিরত থাকেন। এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ ২ জুলাই যুগান্তরসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক পত্রিকায় প্রকাশিত হলে টনক নড়ে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের। পরে ৫ জুলাই ৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ডেকে ১০ লাখ ৬৮ হাজার টাকা বিতরণ করেন অভিযুক্ত শিক্ষা কর্মকর্তা। অপরদিকে ৬ জুলাই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরীর উপস্থিতিতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ভোটকেন্দ্র মেরামত না করে উত্তোলন করা দুই লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন।