এ যেন স্বাস্থ্য প্রকৌশর বিভাগের নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি অর্থবছরের শেষের দিকে তড়িঘড়ি করে মেরামতসহ নানা কাজ শুরু করে, একপর্যায়ে জুন ক্লোজিংয়ের অজুহাত দিয়ে কাজ শেষ না করেই বিল তুলে নেয় ঠিকাদার। এ কাজে জড়িত স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের কর্তাব্যক্তিরাও। সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও এ ঘটনা ঘটেছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংস্কারসহ প্রায় ২৬ লাখ টাকার কাজে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের আওতায় স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন উন্নয়ন ও সংস্কার কাজের জন্য প্রায় ২৫ লাখ ৯৮ হাজার টাকার একটি প্রকল্পে টেন্ডার হয়। কাজটির দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রভা এন্টারপ্রাইজ। প্রকল্পের কাজের আওতায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনের রিপেয়ারিং, রং করা, টাইলস লাগানো, আইপিএস, থাই গ্লাস, দরজা-জানালা, কেচিগেট, ইলেকট্রনিক ও স্যানেটারি কাজসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু অর্থবছরের শেষ সময়ে এসে তড়িঘড়ি করে কাজ শুরু করে ঠিকাদার।
সরেজমিন দেখা যায়, এখনো ভবনের বিভিন্ন অংশের কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। কোথাও রঙের কাজ শেষ হয়নি, আবার কোথাও টাইলস ও স্যানেটারি কাজেও ত্রুটি রয়ে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, কাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও জুন ক্লোজিংয়ের অজুহাত দেখিয়ে ৩০ জুন ২০২৬ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল উত্তোলন করেছে। এতে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সচেতন মহল। এছাড়া মেরামত কাজের বাকি কাজ আদৌ হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে নিুমানের কাজ কিংবা এমন অনিয়ম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, ‘বিল উত্তোলনের জন্য আমার কাছ থেকে প্রত্যয়ন নিতে হয়। ঠিকাদার আমার কাছ থেকে কোনো প্রত্যয়ন নেয়নি। বিল উত্তোলনের বিষয়টি আপনাদের কাছ থেকেই শুনলাম।’ তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।
এদিকে ঠিকাদার জসিম উদ্দিনের মুঠোফোনে ‘কাজ শেষ না করেই বিল উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে’ তিনি ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
চাঁদপুর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মাবরুর ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।








