শীত মৌসুম এলেই অতিথি পাখির অভয়ারণ্য হয়ে ওঠে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর ও ঘিওর উপজেলার সীমান্তবর্তী নিলুয়া বিল। তবে, সড়ক ও কালভার্ট নির্মাণের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমির পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে এমনটি আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
প্রতি বছর নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত এ বিলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা নানা প্রজাতির অতিথি পাখির বিচরণ দেখা যায়। দেশীয় বক, বালিহাঁস, খয়রা চখাচখি, কার্লিউ, বুনোহাঁস, পানিকৌড়ি ও পানকৌড়িসহ অসংখ্য পাখির নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত এই বিলটি দিন দিন ভ্রমণপিপাসু ও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়কের একটি বাঁক সোজা করতে গিয়ে বিলটির স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। ফলে শীতকালে আগত পাখিরা নিরাপদ আশ্রয় হারাতে পারে। সড়ক ও কালভার্ট নির্মাণের ফলে যানবাহনের শব্দ, মানুষের আনাগোনা এবং নির্মাণকাজের তীব্রতা বাড়ায় পাখির স্বাভাবিক বিচরণ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, টাঙ্গাইলের নাগরপুর থেকে বরংগাইল পর্যন্ত একটি আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। এ প্রকল্পের আওতায় নিলুয়া বিলের পাশ দিয়ে দৌলতপুর উপজেলার সঙ্গে জেলা শহরের সংযোগ সড়কের একটি বাঁক সোজা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ওই অংশে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে, এই বাঁক সোজা করতে গিয়ে বিলের পাশ ঘেঁষে সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।
পাখি ও পরিবেশ লালনকরি (পালক) সংগঠনের সদস্য সচিব বিমল রায় বলেন, “জেলার বিভিন্ন ছোট জলাশয় ও বিলই অতিথি পাখির প্রধান আশ্রয়স্থল। এসব স্থান ধ্বংস হলে শুধু পাখিই নয়, পুরো বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই নিলুয়া বিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। উন্নয়ন কাজের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও তা যেন পরিবেশের ক্ষতির কারণ না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতন থাকতে হবে।”
মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক ইয়াসমিন বানু খন্দকার বলেন, “সড়ক ও কালভার্ট নির্মাণের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ছোট কালভার্ট থাকলেও পানির স্বাভাবিক গতিপথে বিঘ্ন ঘটবে। এতে প্রাণী বৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং বিলের ইকোসিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
মানিকগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, “নিলুয়া বিলটি বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হলে মাছের প্রজনন ও জীবনচক্রে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।”
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, “সড়কপথ নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত করতে ওই অংশে বাঁক সোজা করা হয়েছে। জনস্বার্থ বিবেচনায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
প্রকল্পটির পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সড়ক নির্মাণের প্রকল্পটি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের দিকে নেওয়া হয়েছে। ওই সময় পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করা হয়েছিল কিনা, তা জানতে নথিপত্র দেখতে হবে।”








