চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পরীক্ষা শেষ হয়েছে। কিন্তু আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল মেলেনি। ফল প্রকাশে শিক্ষা অধিদপ্তরের এই ধীরগতিতে সাধারণ অভিভাবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) জানিয়েছে, ফল তৈরিতে করণিক ও প্রযুক্তিগত ভুল এড়াতেই কিছুটা সময় লাগছে। সব ঠিক থাকলে আগামী জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে এই ফল প্রকাশ করা হতে পারে।
অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ এস এম সিরাজুদ্দোহা আজ রোববার প্রথম আলোকে বলেন, ‘বৃত্তির ফল প্রস্তুতের কাজ এখন শেষ ধাপে রয়েছে। জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে ফল প্রকাশের জোর সম্ভাবনা রয়েছে।’
এর আগে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী জানিয়েছিলেন, বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা প্রস্তুতে যেন কোনো ত্রুটি না থাকে, সে জন্য খসড়া ফলাফলটি অধিকতর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
সন্তানদের পরীক্ষার ফল নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন অভিভাবকেরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক প্রথম আলোকে বলেন, বাচ্চারা এপ্রিল মাসে পরীক্ষা দিয়েছে। এখন তারা ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন পরিবেশে ক্লাস করছে। বৃত্তির ফলের ওপর ওদের একটা মানসিক আত্মবিশ্বাস নির্ভর করে। ফল দিতে দেরি হলে সেই আগ্রহটাই মাটি হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল জুন মাসের মধ্যেই এটি প্রকাশ করা।
ফল মিলবে অনলাইনে ও এসএমএসে—
অধিদপ্তর জানায়, ফল প্রকাশের পর অভিভাবকেরা অনলাইন ও মোবাইল এসএমএসের (SMS) মাধ্যমে ফল সংগ্রহ করতে পারবেন। অনলাইনে রেজাল্ট দেখার অফিশিয়াল মাধ্যম হলো ‘আইপিইএমআইএস’ (IPEMIS) পোর্টাল।
আইটি স্কলারশিপ ২ লাখ টাকার, ডিগ্রি যা-ই হোক, হয়ে উঠুন আইটি প্রফেশনাল৮২৫০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে—
এ বছর মেধার ভিত্তিতে মোট ৮২ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ (৬৬ হাজার) কোটা পাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বাকি ২০ শতাংশ (১৬ হাজার ৫০০) পাবে বেসরকারি বা কিন্ডারগার্টেনের প্রার্থীরা। মেধাতালিকায় ছাত্র ও ছাত্রী সমান হারে (৫০ শতাংশ করে) নির্বাচিত করা হবে।
ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ গ্রেডের সুবিধা—
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ‘ট্যালেন্টপুল’ ও ‘সাধারণ গ্রেড’—এই দুই ভাগে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে। ট্যালেন্টপুলে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থীকে মাসিক ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং বছরে এককালীন ২২৫ টাকা দেওয়া হবে। অন্যদিকে সাধারণ গ্রেডে ৪৯ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে মাসিক ২২৫ থেকে ২৫০ টাকা এবং বছরে এককালীন ২২৫ টাকা দেওয়া হবে।
নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পরবর্তী তিন বছর এই আর্থিক সুবিধা পাবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে বৃত্তির এই অর্থ দ্বিগুণ থেকে চার গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর একটি প্রস্তাবনাও বর্তমানে সরকারের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে সারা দেশে একযোগে এই বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের অন্য সব জেলায় গত ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত এই পরীক্ষা চলে। আর পার্বত্য তিন জেলা—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বিশেষ সময়সূচিতে ১৭ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হয়।








