ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম নেতা হাজী মোহাম্মদ দানেশের ৪০ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তাকে স্মরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন, দোয়া মাহফিল এবং তার কর্মময় জীবনের ওপর আলোকপাত করা হয়।
রবিবার (২৮ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে অবস্থিত হাজী মোহাম্মদ দানেশের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন হাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক মো. এনামুল্যা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম সিকদার, ট্রেজারার অধ্যাপক এম. জাহাঙ্গীর কবিরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।
এছাড়া, জোহরের নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে হাজী মোহাম্মদ দানেশ এবং তার পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের রূহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। একইসঙ্গে দেশের সার্বিক কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে উপাচার্য অধ্যাপক মো. এনামুল্যা বলেন, “হাজী মোহাম্মদ দানেশ ছিলেন শোষিত-বঞ্চিত কৃষক ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিবেদিতপ্রাণ একজন সংগ্রামী নেতা। উচ্চশিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধে ও বিনয়ী। তার জীবন ত্যাগ, সততা ও দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”
তিনি আরো বলেন, “অধিকারবঞ্চিত কৃষক ও সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় তার আপসহীন সংগ্রাম ও নেতৃত্ব ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তার আদর্শ ও কর্মময় জীবন নতুন প্রজন্মকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করার প্রেরণা জোগাবে। তার নামাঙ্কিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানাই—আমরা সবাই তার আদর্শ ধারণ করে ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করি।”
প্রসঙ্গত, হাজী মোহাম্মদ দানেশ ১৯০০ সালের ২৭ জুন দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার নামানুসারে ১৯৮৮ সালের ১১ নভেম্বর হাজী মোহাম্মদ দানেশ কৃষি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ২০০২ সালের ৮ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে।








