ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখতে যাওয়া সাবেক এক নারী শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দেওয়া এবং এ ঘটনায় হল সংসদের দায়িত্বশীল পদে থাকা কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
আজ রোববার দুপুর ২টায় সংগঠনের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি দেন। পরে প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটি।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ২৭ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ১৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের দুজন বিবাহিত সাবেক শিক্ষার্থী বর্তমান কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে ফুটবল খেলা দেখতে শহীদুল্লাহ হলে প্রবেশ করেন। হলের প্রবেশপথে নিয়ম অনুযায়ী নাম নিবন্ধনের পর তারা মাঠে অবস্থান করছিলেন।
এ সময় হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক মো. সাজু মিয়া, ক্রীড়া সম্পাদক এবং আরও কয়েকজন তাদের ঘিরে ধরেন বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সাবেক ওই নারী শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ করে অপমানজনক, বৈষম্যমূলক ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করা হয়। পরে সংঘবদ্ধভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তাদের হল ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর নেতারা বলেন, ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মব সংস্কৃতি, মোরাল পুলিশিং, কর্তৃত্ববাদী আচরণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের একটি উদ্বেগজনক উদাহরণ।
সংগঠনটির নেতাদের দাবি, হল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রশাসনিক ক্ষমতা ছাড়াই শিক্ষার্থীদের ঘিরে ধরা, জিজ্ঞাসাবাদ করা এবং হল থেকে বের করে দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
এ সময় বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করে। দাবিগুলো হলো—ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত, হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক মো. সাজু মিয়া–ক্রীড়া সম্পাদকসহ জড়িত সকলের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্যাম্পাসে মব সংস্কৃতি ও মোরাল পুলিশিংয়ের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ সবার নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।








