শিক্ষার্থীদের মিড ডে মিলের জন্য দেওয়া ২৪টি ডিম ও ২২ প্যাকেট বিস্কুট অনৈতিকভাবে বাসায় নিয়ে যান বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার রানীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রেশমা আক্তার। স্কুল ফিডিংয়ের খাদ্যসামগ্রী আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ায় তাকে জরুরি কৈফিয়তের জন্য তলব করা হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস তাকে তলব করেছে।

রোববার (২৮ জুন) এক অফিস আদেশে এ তলব করা হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. তানভীর মিয়ার পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিতকরণে সরকারের গৃহীত স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে যে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এরই ধারাবাহিকতায় বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার রানীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রেশমা আক্তারের বিরুদ্ধে স্কুল ফিডিংয়ের সামগ্রী আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আজ এক অফিস আদেশের মাধ্যমে জরুরি কৈফিয়ত তলব করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, বরিশাল।

আরও পড়ুন

মাদারীপুর / স্কুলের টিফিনে পচা খাবার, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মকর্তা কারাগারে

এতে আরও বলা হয়, গত ২৫ জুন বিদ্যালয় ছুটি শেষে ফেরার পথে প্রধান শিক্ষিকা স্কুল ফিডিং কর্মসূচির জন্য বরাদ্দকৃত ২৪টি ডিম এবং ২২ প্যাকেট বিস্কুট অনৈতিকভাবে নিজের বাসায় নিয়ে যান। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (ফেসবুক) এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশিত হলে বিষয়টি অঅধিদপ্তরের দৃষ্টিগোচর হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের পুষ্টির জন্য বরাদ্দ করা খাবারে যে কোনো ধরনের অনিয়ম বা আত্মসাতের চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। বর্তমান সরকার সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণমাধ্যমে বিষয়টি আসার পরপরই দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সই করা নোটিশে অভিযুক্ত শিক্ষককে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ মোতাবেক আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব সশরীরে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপযুক্ত ও সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ও কঠোর বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এএএইচ/এমআইএইচএস