সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় সাতক্ষীরা সদরের কৃষকদের মাঝে গাছের চারা ও সার বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে কৃষি বিভাগ। অভিযোগ তদন্তে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ শুভ্রকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী, ২৯ জুন সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ১ হাজার ২০০ জন কৃষকের মাঝে গাছের চারা ও সার বিতরণ করা হয়। তবে পরিপত্রে উল্লেখিত বরাদ্দ এবং বাস্তবে বিতরণ করা উপকরণের মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। সহায়তা পাওয়া সদর উপজেলার প্রতি কৃষককে ৬০০ টাকা মূল্যের ১৫০ কেজি গোবরের জৈব সার দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে একটি কোম্পানির মাত্র ৪০ কেজি ওজনের এক বস্তা সার, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪৮০ টাকা। অথচ মাস্টাররোলে কৃষকদের কাছ থেকে ১৫০ কেজি সার গ্রহণের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া প্রতি কৃষককে ৫০ টাকা মূল্যমানের পাঁচটি বাঁশের খুঁটি দেওয়ার কথা থাকলেও সরবরাহ করা হয়েছে নিুমানের খুঁটি। কৃষকদের দাবি, এসব খুঁটির প্রকৃত মূল্য প্রতিটি ১০ থেকে ২০ টাকার বেশি নয়। একইভাবে বিএডিসি থেকে সরবরাহকৃত ১৬০ টাকা মূল্যের একটি করে নারকেল চারা দেওয়ার কথা থাকলেও বিতরণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, চারা, সার ও বাঁশের খুঁটি বিতরণে অনিয়মের মাধ্যমে কৃষকদের বঞ্চিত করে কয়েক লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক ওবায়দুর রহমান মণ্ডল স্বাক্ষরিত এক পত্রে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ শুভ্রকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান রফিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাতক্ষীরা জেলা খামারবাড়ি থেকেও অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে পৃথক আরেকটি শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, দুর্নীতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তা নিজেকে রক্ষায় বিভিন্ন মহলে তদবির করছেন। পাশাপাশি মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তদন্ত প্রতিবেদন নিজের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত কমিটির প্রধান ও নড়াইল জেলা খামারবাড়ির উপ-পরিচালক আরিফুর রহমান বলেন, ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রভাবিত করার কোনো সুযোগ নেই। সরেজমিন তদন্তে যা পাওয়া যাবে, প্রতিবেদনে তাই তুলে ধরা হবে।








