সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজার পর উদ্‌যাপনের চেয়ে সমালোচনাই বেশি শোনা গেল টমাস টুখেলের কণ্ঠে। নরওয়েকে ২–১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে উঠলেও দলের পারফরম্যান্সে একেবারেই সন্তুষ্ট নন ইংল্যান্ড কোচ। তাঁর মতে, ইংল্যান্ড এই ম্যাচে ভাগ্যের সহায়তা পেয়েছে, তবে এমন ফুটবল খেলতে থাকলে বিশ্বকাপ জেতা সম্ভব নয়।

মায়ামিতে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালে জুড বেলিংহামের জোড়া গোলে অতিরিক্ত সময়ে জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে স্টালে নরওয়ে একাধিক সুযোগ তৈরি করে, একটি গোলও করেছিল। তবে ভিএআরের সিদ্ধান্তে সেটি বাতিল হয়ে যায়। ক্রিস্টোফার আজারের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে, নুসার শটও আটকে দেন জর্ডান পিকফোর্ড। শেষ পর্যন্ত সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারার মূল্য দিতে হয়েছে নরওয়েকে।

ম্যাচ শেষে টুখেল বলেন, ‘ফল অবশ্যই দারুণ। আমরা শেষ চারে উঠেছি, এটা অসাধারণ। কিন্তু পারফরম্যান্সে আমি মোটেও খুশি নই। প্রতিশ্রুতির অভাব ছিল না, কিন্তু আমরা নিজেরাই নিজেদের জীবন কঠিন করে তুলেছি। আমাদের খেলায় ছিল অসংখ্য টেকনিক্যাল ভুল, বলের গতি ছিল ধীর, ধারাবাহিকতাও ছিল না। সত্যি বলতে, আজ আমরা ভাগ্যবান ছিলাম।’

ইংল্যান্ডের মানসিক দৃঢ়তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কিছুটা বিরক্তই হন জার্মান এই কোচ। তাঁর জবাব, ‘মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন করছেন কেন? আজ আমরা যে ম্যাচটা জিতেছি, সেটা পুরোপুরি মানসিক শক্তির কারণেই। এই মানসিকতাকে বোতলজাত করে বিক্রি করা যায়! কিন্তু সমস্যা মানসিকতায় নয়, সমস্যা আমাদের ফুটবলের মানে। আমাদের আরও ভালো খেলতে হবে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

তবে দলের নায়ক জুড বেলিংহামের প্রশংসা করতে ভোলেননি টুখেল। তিনি বলেন, ‘সে প্রতি ম্যাচেই এমন করে। সে বিশ্বমানের ফুটবলার। তবে শুধু বেলিংহামের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। পুরো দলকেই নিজেদের পারফরম্যান্সের মান বাড়াতে হবে।’

৮ বছর পর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা–সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচের জয়ী দল। তবে টুখেলের চোখে এখনই উৎসবের সময় নয়। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘আমাদের হাতে মাত্র তিন দিন সময়। সেমিফাইনালে যেতে হলে আজকের চেয়ে অনেক ভালো খেলতে হবে।’