মাদারীপুরের শিবচরে চাহিদার বিপরীতে মিলছে অর্ধেক বিদ্যুৎ। ফলে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বাড়ছে দুর্ভোগ। স্থানীয়রা জানান, রাতে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে। কোনো কোনো দিন সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত ৫/৬ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলায় ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। ২০২২ সালে শিবচরকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার গ্রাহকের কাছে পাঁচটি উপকেন্দ্রের মাধ্যমে ২ হাজার ৮৪৫ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইনের সাহায্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

অপর দিকে চাহিদার বিপরীতে ১৬/১৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকায় লোডশেডিং প্রকট আকার ধারণ করছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের ফলে বিপাকে পড়ছে শিক্ষার্থী, অসুস্থ ব্যক্তি ও শিশুরা। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা, উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা কার্যক্রম ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

উপজেলার উৎরাইল এলাকার বাসিন্দা এনায়েত হোসেন বলেন, ‘গত রাতেও (সোমবার) বেশ কয়েকবার লোডশেডিং হয়েছে। ব্রাজিলের খেলার মধ্যে একাধিকবার লোডশেডিং হয়েছে। ঠিকমতো খেলা দেখতে পারিনি।’

এ বিষয়ে শিবচর পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার অভিলাষ চন্দ্র পাল বলেন, ‘আসলে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছি আমরা। জনগণ ক্ষুব্ধ হলেও বাস্তবে আমাদের কিছু করার নেই। শিবচরে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩৫ মেগাওয়াট, কিন্তু আমরা মাত্র ১৬ থেকে ১৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছি। ফলে বাধ্য হয়েই এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়লে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আমরা আশা করছি।’