পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের দরপত্রপ্রক্রিয়া শিগগির শুরু হবে এবং চলতি অর্থবছরেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) সম্পন্ন করা হবে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রকল্পটির নাম যা–ই হোক না কেন, তিস্তা নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
আজ রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী এ কথাগুলো বলেন। এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সংসদ অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়নের প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। খুব শিগগির টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ শুরু হবে। আর এই অর্থবছরেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা যে নামেই হোক—বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ফিজিবিলিটি স্টাডির জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে তারা সম্মতি দিয়েছে। বাজেটে বরাদ্দের পর দ্রুত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ করে পদ্মা ব্যারাজের মতো তিস্তা প্রকল্পও দৃশ্যমান করা হবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক চীন সফরে তিস্তা ও বাংলাদেশের সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
দেশের নদীভাঙন পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রসহ বিভিন্ন নদীর তীরবর্তী প্রায় চার হাজার কিলোমিটার এলাকায় মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। তারা বাজেট বোঝে না, তারা শুধু বাঁচতে চায়। আমি যখন কথা বলছি, তখনো কোথাও না কোথাও নদীভাঙন চলছে।’
আবার (জেলে) যাব?
বাজেট আলোচনায় রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন শহীদ উদ্দীন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে কঠিন আন্দোলন করেই আমরা আজ সবাই সংসদে এসেছি। এই ঐক্য ধরে রাখতে হবে।’
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, ‘কাশিমপুর জেলখানার কথা তো মনে আছে। আমরা একসঙ্গে ছিলাম, নামাজ পড়েছি, খাওয়াদাওয়া করেছি, আলোচনা করেছি এবং ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হওয়ার কৌশল নির্ধারণ করেছি। আবার যাব? আবার আমাদের জেলে যাওয়ার ব্যবস্থা করবেন না।’
এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা কিছু একটা বলেন। তখন শহীদ উদ্দীন চৌধুরী হেসে বলেন, ‘আবার যাব? ইনশা আল্লাহ।’ এরপর তিনি বলেন, ‘আবার আমাদের যেতে (জেলে) হবে না। কারণ, এ দেশের মানুষ তারেক রহমানের সঙ্গে আছে। এ দেশের মানুষ (প্রয়াত) প্রেসিডেন্ট জিয়ার সঙ্গে ছিল, এ দেশের মানুষ বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ছিল। আবার যাওয়ার ব্যবস্থা করবেন না বিরোধীদলীয় নেতা।’
বিএনপি সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতি করবে না জানিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রতিশোধ নেব ভালো কাজ দিয়ে। ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননই হবে আমাদের প্রতিশোধ।’








