শিক্ষা খাতে জাতীয় বাজেটের ২৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রস্তাবিত মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলেরও আহ্বান জানান জোটের নেতারা।

আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিন থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি সালমান সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের সহসভাপতি নাঈম উদ্দিন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সমর চাকমা, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদ চৌধুরী এবং বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি দিলীপ রায়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তামজিদ হায়দার চঞ্চল।

বক্তারা বলেন, শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার মান অবনতি হচ্ছে, ব্যয় বাড়ছে এবং নিম্নআয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের সহসভাপতি নাঈম উদ্দিন বলেন, রাষ্ট্রের শিক্ষা-সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন না হওয়ায় সরকার পরিবর্তন হলেও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে না।

পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সমর চাকমা অভিযোগ করেন, সমতল ও পার্বত্য অঞ্চলের সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার। তিনি বলেন, দুর্গম এলাকার পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার বেশি এবং শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দের পরিবর্তে সামরিক ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির বিষয়েও বক্তব্য তুলে ধরেন।

গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদ চৌধুরী বলেন, জাতীয় বাজেটে জনগণের মতামতের প্রতিফলন নেই। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার না দিয়ে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি দিলীপ রায় বলেন, শিক্ষা খাতে বরাদ্দের ঘাটতির কারণে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নানা সংকটে রয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষার মান, ব্যয় এবং শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধার ওপর।

সভাপতির বক্তব্যে সালমান সিদ্দিকী বলেন, ইউনেসকো ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা সংস্থাগুলোর সুপারিশ অনুযায়ী উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জাতীয় বাজেটের অন্তত ২৫ শতাংশ বা জিডিপির ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা উচিত।

পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাবে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা, গ্রন্থাগার, ল্যাবরেটরি, আবাসন ও শিক্ষার্থীদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।