শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে দ্বিতীয় দফায় আল্টিমেটাম দিয়ে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ের অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করে শাহবাগ ত্যাগ করলে এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে তারা।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষে ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী রাহাত আহমেদ বলেন, ‘আমরা শিক্ষামন্ত্রীকে রাত ১০টা পর্যন্ত সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে তিনি পদত্যাগ না করলে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা ১১টায় সায়েন্সল্যাব মোড়ে সমবেত হয়ে মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশে পদযাত্রা করবো।’

আন্দোলনরত এইচএসসি শিক্ষার্থীরা শাহবাগ ছাড়ার পর স্বাভাবিক হয় যান চলাচল, ছবি: জাগো নিউজ

তিনি বলেন, কিছু শিক্ষার্থী আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কেউ ছয় দফা দাবি তুলছে, আবার কেউ সরকারের পদত্যাগের কথা বলছে। তবে আমাদের আন্দোলনের একমাত্র দাবি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।

বর্তমান সরকার মাত্র চার মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছে। তারা সরকারের পতন চান না। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন ধাপে ধাপে আনা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছি। ফলাফল ও শিক্ষাব্যবস্থার ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর প্রচেষ্টার বিরুদ্ধেই আমরা আন্দোলন।

এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে একদল শিক্ষার্থী রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করলে সেখানে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে তারা সচিবালয়ের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু করেন।

বিকেল ৪টার দিকে তারা শিক্ষা ভবনের সামনে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা ৬টার দিকে তারা শিক্ষা ভবনের সামনে থেকে সরে গেলে পুলিশ ব্যারিকেড অপসারণ করে এবং ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এর কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে আরেকদল শিক্ষার্থী শাহবাগ মোড় অবরোধ করলে গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারা অবরোধ তুলে নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করে শাহবাগ ত্যাগ করেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে: দুর্যোগ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখা, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ১৩ জুলাই পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ।

অন্যদিকে, একই সময়ে আরেকটি শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি থেকে সরে এসে ছয় দফা দাবি নিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ফলে বুধবারের আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুই ধরনের কর্মসূচি ও দাবির চিত্র দেখা যায়।

ইএআর/এমএএইচ/