তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ‘লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার: এমপাওয়ারিং ইয়ুথ ভয়েসেস ২.০’ প্রকল্পের আওতায় একটি বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে চবির বিভিন্ন ক্লাবের সদস্যদের অংশগ্রহণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওয়েভ ফাউন্ডেশন ও ডিডাব্লিউ (ডয়চে ভেলে) একাডেমির যৌথ উদ্যোগে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জার্মান সরকারের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য তরুণদের নীতিনির্ধারণী আলোচনায় সম্পৃক্ত করা।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক শাহাব উদ্দিন নিপু, একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খ. আলী আর রাজী, মার্কেটিং বিভাগের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক তুনানজিনা সুলতানা, সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন এবং সহকারী প্রক্টর সুজন নাজের।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেট্রি, কমিউনিকেশন অ্যান্ড স্টেকহোল্ডার এনগেজমেন্ট বিভাগের মো. সাইফুর রহমান এবং রিসার্চ অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন স্পেশালিস্ট সাজ্জাদুল করিম। এ সময় ফাউন্ডেশনের ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাডমিন কর্মকর্তা ফারহানা আক্তারও উপস্থিত ছিলেন। সভায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লাবের সদস্যরা অংশ নেন।
মতবিনিময় সভায় অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন বলেন, “এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য, গবেষণা ও তথ্যভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে যারা বেশি উদ্যমী তারাই এখানে এসেছেন। শিক্ষিতদের আবার নতুন করে শিক্ষিত করার জন্যই এমন আয়োজন। পৃথিবীতে সবচেয়ে দামি জিনিস আইডিয়া। আর এসব আইডিয়া তৈরি করে দিবে এই বুট ক্যাম্প।”
ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেট্রি বলেন, “এই প্রকল্প তরুণদের কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে এবং তাদেরকে নীতিনির্ধারণী আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত করছে। বর্তমান সময়ে গুজব ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রতিরোধে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাদের ফ্যাক্ট-চেকিং দক্ষতা বৃদ্ধি, মিডিয়া লিটারেসি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা সময়ের দাবি।”
ওয়েভ ফাউন্ডেশনের কমিউনিকেশন অ্যান্ড স্টেকহোল্ডার এনগেজমেন্ট বিভাগের মো. সাইফুর রহমান বলেন, “তরুণদের তথ্য যাচাইয়ের (ফ্যাক্ট-চেকিং) দক্ষতা বাড়ানো গেলে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গুজব প্রতিরোধে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।”
রিসার্চ অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন স্পেশালিস্ট সাজ্জাদুল করিম বলেন, “দেশের যেকোনো বড় পরিবর্তনে তরুণদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের কণ্ঠস্বর সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রধান মাধ্যম এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। তাই সাইবার নীতি ও আইন সম্পর্কে সবার জানা এবং তা মেনে চলা প্রয়োজন।”
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার’ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, স্থানীয় পর্যায়ের সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনের (সিএসও) তরুণ স্বেচ্ছাসেবক এবং আঞ্চলিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ ও পারস্পরিক অংশগ্রহণ বাড়ানো হচ্ছে। এ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় আগামীতে একটি বিশেষ বুট ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা আরো নিবিড় প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন।








