যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে নবীনদের সৎ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইয়ারুল কবীর।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান জিমনেসিয়ামে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইয়ারুল কবীর।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, “তোমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক স্বপ্ন নিয়ে এসেছো। তোমরা বাবা-মা’র নাম উজ্জ্বল করবা, দেশ ও জাতির জন্য কাজ করবা। একইভাবে তোমাদের বাবা-মা’রও একটা স্বপ্ন আছে, তুমি যখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হবে, তুমি একটা পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে বের হবে। আমাদের দায়িত্ব হলো তোমাদেরকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। কিন্তু সেই পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের দায়িত্ব পালন করার সাথে সাথে তোমাদেরও দায়িত্ব আমাদের সহযোগিতা করা। আমার বিশ্বাস তোমরা যারা নতুন এসছো, তোমাদেরকে সঠিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তোমরা আমাদেরকে সহযোগিতা করবে।”
তিনি আরো বলেন, “তোমরা বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবে। ভালো বন্ধু তোমাদের ভালো লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। এখন থেকে তোমরা যেমন স্বাধীন তেমনি তোমাদের দায়িত্বও বেশি। এই দেশ ও জাতির জন্য তোমাদের দায়িত্ব অনেক। আগামী দিনগুলো তোমাদের আরও বিচক্ষণতার সাথে চলতে হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয় তোমাদের পড়ালেখা ও গবেষণার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ দিতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান। তিনি নবীনদের উদ্দেশে বলেন, “তোমরা আগামী চার বছর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করবে। প্রতি বছর তোমাদের পেছনে সরকারের অর্থাৎ দেশের সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের একটি বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হবে। এই টাকা আমাদের দেশের সেই খেটে খাওয়া কৃষক, দিনমজুর ও মেহনতি মানুষের রক্ত জল করা উপার্জনের টাকা। তাই দেশের এই সাধারণ মানুষের প্রতি আমাদের এক বিশাল ঋণ রয়েছে। আর এই ঋণ শোধ করার একমাত্র উপায় হলো নিজেকে একজন সৎ, যোগ্য ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলে দেশের কল্যাণে নিয়োজিত থাকা। আমাদের যেমন দক্ষ মানুষের প্রয়োজন, ঠিক তেমনি এ দেশকে ভালোবাসার মতো সৎ মানুষেরও প্রয়োজন।”
ওরিয়েন্টেশনের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল ও শিক্ষা উপকরণ দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের দলবেঁধে একাডেমিক ভবনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখতে দেখা যায়। অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিনের স্মৃতি মুঠোফোনে ধারণ করেন। দিনভর নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর ছিল যবিপ্রবি ক্যাম্পাস। ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মো. রাফিউল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ডিনস কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ইমরান খান, ডিন অধ্যাপক শেখ মিজানুর রহমান, অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, অধ্যাপক মো. হাফিজ উদ্দীন, মোহাম্মদ কামাল হোসেন, মরিয়ূম জামিলা, অধ্যাপক মো. নাসিম রেজা, অধ্যাপক মো. জিয়াউল আমিন, রেজিস্ট্রার কাজী মো. জালাল উদ্দীন, প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. আব্দুর রউফ সরকার, প্রক্টর মো. হামিদুর রহমান এবং নবীন শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার জুই।
এছাড়া, অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের চেয়ারম্যান, দপ্তরপ্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক সমিতি ও বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটের সদস্যরা অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় সহযোগিতা করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শাহনুর রহমান।








