সিলেট বিভাগের তিনটি প্রধান নদী খোয়াই, মনু ও কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় কুশিয়ারা ও সুরমা নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা করা হয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় প্রকাশিত বিশেষ বার্তায় এই তথ্য জানিয়েছে।

বার্তায় বলা হয়েছে, বর্তমানে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হবিগঞ্জ জেলার বাল্লা পয়েন্টে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার, মৌলভীবাজার পয়েন্টে মনু নদীর পানি ৭৫ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি যথাক্রমে ২২ ও ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এফএফডব্লিউসির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও মৌলভীবাজার বিভাগের সুরমা, কুশিয়ারা ও মনু নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি ধীর গতিতে হ্রাস পেতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির ধীর গতিতে উন্নতি হতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।

তবে একই সময়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও ভুগাই-কংস নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়ে কিছু কিছু স্থানে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে।

বার্তায় আরও বলা হয়েছে, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় কুশিয়ারা নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে এবং সুরমা নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে।

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন উত্তর ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে বিগত তিন দিনে চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং সংলগ্ন উজানে ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১০ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে এবং সংলগ্ন উজানে ভারতের ত্রিপুরা, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। আগামী তিন দিনে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা ও শেরপুর জেলা এবং সংলগ্ন অঞ্চলে সর্বোচ্চ সর্বমোট ২০০ থেকে ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এফএফডব্লিউসির হিসাবে, বর্তমানে দেশের সাতটি জেলা বন্যা আক্রান্ত এবং আটটি জেলা আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্যা ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলা বর্তমানে বন্যা আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত, আর সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রাখা হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন,  ইতিমধ্যেই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাজধানীর গ্রীন রোডে পানি ভবনের দ্বিতীয় তলায় কেন্দ্রটির কার্যালয়ে দিনরাত কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। কোথায় কত বৃষ্টি হবে, বিশেষ করে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উজানে বৃষ্টির পরিমাণের ওপর আগামী দিনের বন্যা পরিস্থিতি নির্ভর করবে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে সিলেট অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।