সিলেটের দক্ষিণ সুরমা ও নগরের উত্তর বালুচরে দুই প্রবাসীর জমি ও বাড়ি দখল, চুরি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাঁদা দাবি এবং হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। দখলবাজদের ভয়ে সংশ্লিষ্ট প্রবাসীরা দেশে ফিরতেও পারছেন না। অন্যায়ের প্রতিকার ও জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে শনিবার সিলেটের দুই প্রেস ক্লাবে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্বজনরা। প্রথম সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ সুরমার বলদি গ্রামে যুক্তরাজ্য প্রবাসী মাহবুবুর রহমানের সম্পত্তি দখল, স্বর্ণালংকার চুরি ও মূল্যবান গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন তার আমমোক্তার একই গ্রামের বাসিন্দা মো. কালা মিয়া। প্রবাসী মাহবুবুর রহমানের ছোট ভাই ময়নুল ইসলাম, ছোট বোন আকলিমা বেগম লাকি এবং তার স্বামী শাহ আব্দুস শহীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্যে মো. কালা মিয়া বলেন, মাহবুবুর রহমান নিজের কষ্টার্জিত অর্থে বাবার নামে ২৩ শতক ভূমি ক্রয় করে সেখানে দালান নির্মাণ করেন। বাবার মৃত্যুর পর তিনি সম্পত্তি ভাইবোনদের ভাগ করে দিলে তিন ভাই বাড়ির অংশ পান এবং তিন বোন হেবা দলিলের মাধ্যমে তা তিন ভাইকে বুঝিয়ে দেন। পরবর্তীতে ছোট বোন আকলিমা বেগম সাময়িকভাবে ওই বাড়িতে থাকার অনুমতি নিয়ে এখন তার স্বামী শাহ আব্দুস শহীদসহ প্রবাসীর অংশের বাড়িটি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন। দ্বিতীয় সংবাদ সম্মেলনে নগরের উত্তর বালুচরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এক প্রবাসী পরিবারের বাড়ি দখলের চেষ্টা, চাঁদা দাবি, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও গুম-খুনের হুমকির অভিযোগ এনেছেন স্পেন প্রবাসী ছালেহা বেগম। তিনি তার স্বামী ইংল্যান্ড প্রবাসী মো. ফজর আলীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে জানান, প্রবাস জীবনের কষ্টার্জিত অর্থে ২০১৮ সালে উত্তর বালুচরে সাড়ে চার শতক ভূমিসহ একটি দ্বিতল বাড়ি ক্রয় করে তারা বৈধ দলিল ও নামজারির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু নগরের কাজিটুলা এলাকার জুয়েল আহমদ নিপু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে টাঙ্গাইলের বাসিন্দা শাহনাজ সিদ্দিকী ডোরাকে ব্যবহার করে তাদের অজ্ঞাতে একটি স্বত্ব মামলা ও রায় তৈরি করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে বাড়ি দখলের চেষ্টা চালান। পরে প্রবাসীর স্বামী দেশে ফিরে জেলা জজ আদালতে আপিল করলে ওই রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত হয়। ছালেহা বেগমের অভিযোগ, আপিল মামলা চলমান থাকলেও জুয়েল আহমদ নিপু ও তার সহযোগীরা আপসের নামে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করছে এবং চাঁদা না দেওয়ায় একের পর এক মিথ্যা মামলা ও জিডি করে হয়রানি করছে। এমনকি বাড়ি না ছাড়লে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া নাতি-নাতনিদের হত্যা, অপহরণ ও গুমের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, জুয়েল আহমদ নিপু নিজেকে বিএনপির নেতা পরিচয় দিয়ে ডোরার মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় গোপন মামলা করে নিরীহ মানুষের সম্পত্তি দখল ও চাঁদাবাজি করছেন।








