মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটে আন্তর্জাতিক মানের ইকো কনটেইনার পোর্ট নির্মাণের ঘোষণা ১ বছর পার হলেও এখনো তা কাগজেই সীমাবদ্ধ। দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।২০২৫ সালের ২২ জুন শিমুলিয়া ঘাটে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সভায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পাঁচজন উপদেষ্টা এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জোরালো ঘোষণা দিয়েছিলেন। সভায় জানানো হয়, বিআইডব্লিউটিএর প্রায় ২৯ দশমিক ৩১ একর জমিতে ৭৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হবে ইকো কনটেইনার পোর্ট। এর পাশাপাশি রিভার মিউজিয়াম, ইকো রিসোর্ট, পার্ক এবং পুরোনো ফেরিঘাটের ঐতিহ্য সংরক্ষণের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়।তখন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছিলেন, এই প্রকল্পে সরকারই প্রধান অর্থায়ন করবে এবং পর্যটন অংশে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের সুযোগ থাকবে। তবে দীর্ঘ এক বছরেও প্রকল্প অনুমোদন কিংবা দরপত্র আহ্বানের মতো কোনো দাপ্তরিক পদক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি।স্থানীয়দের অভিযোগ, পদ্মা সেতু চালুর পর শিমুলিয়া ঘাটের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনেকটাই কমে গেছে। এই বন্দর নির্মিত হলে কর্মসংস্থান ও ব্যবসার নতুন সুযোগ তৈরি হতো। স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. সুজন বলেন, ‘আমরা নতুন স্বপ্ন দেখেছিলাম, কিন্তু এক বছরেও কোনো কাজ শুরু না হওয়ায় সেই আশা এখন ফিকে হয়ে যাচ্ছে।’সংশ্লিষ্ট এলাকার সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে বন্দরের নির্মাণকাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু লৌহজং নয়, পুরো জেলার অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে।/