নন্দিত কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি বাংলা সাহিত্য যেমন সমৃদ্ধ করেছেন, তেমনি চলচ্চিত্রেও রেখে গেছেন নিজস্ব স্বাক্ষর। মাত্র আটটি সিনেমা নির্মাণ করেও তিনি প্রমাণ করেছেন সংখ্যার চেয়ে নির্মাণের গভীরতাই একজন স্রষ্টাকে অমর করে তোলে।

আরও পড়ুন

বলিউডকে পেছনে ফেলে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে দক্ষিণী সিনেমার রাজত্ব

তার চলচ্চিত্রে যেমন আছে প্রেম, তেমনি মুক্তিযুদ্ধ, রহস্য, গ্রামবাংলার সৌন্দর্য এবং মানুষের জটিল মনোজগতের অনন্য উপস্থাপনা।

হুমায়ূন আহমেদের নির্মিত সেরা পাঁচটি চলচ্চিত্র তুলে ধরা হলো-

আগুনের পরশমণি (১৯৯৪)
পরিচালক হিসেবে প্রথম চলচ্চিত্রেই বাজিমাত করেন হুমায়ূন আহমেদ। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত এই সিনেমায় একটি সাধারণ পরিবারের ভয়, সাহস, ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের গল্প উঠে এসেছে অসাধারণ মানবিকতায়। আসাদুজ্জামান নূর, বিপাশা হায়াত, আবুল হায়াত, ডলি জহুর ও শিলা আহমেদের অভিনয় ছবিটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। এটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে একাধিক বিভাগে সম্মান অর্জন করে।

শ্রাবণ মেঘের দিন (১৯৯৯)
গ্রামবাংলার প্রকৃতি, প্রেম, বিরহ এবং মানুষের অন্তর্লোককে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই ছবিতে। জাহিদ হাসান, মাহফুজ আহমেদ ও মেহের আফরোজ শাওনের অভিনয়ের পাশাপাশি বারী সিদ্দিকী ও সুবীর নন্দীর কণ্ঠে গানগুলো আজও দর্শকের হৃদয়ে দাগ কেটে আছে। এটি বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা রোমান্টিক সিনেমা হিসেবে বিবেচিত।

দুই দুয়ারী (২০০০)
রহস্য, পারিবারিক আবেগ ও রোমান্টিকতার মিশেলে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন রিয়াজ। এই সিনেমার জন্য তিনি প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতার সম্মান পান। শাওন ও মাহফুজ আহমেদের অভিনয়ও ছবিটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

চন্দ্রকথা (২০০৩)
প্রেম, প্রকৃতি, জমিদার প্রথার পতন এবং মানুষের লোভ-লালসার গল্প নিয়ে নির্মিত ব্যতিক্রমধর্মী একটি চলচ্চিত্র। আসাদুজ্জামান নূরের শক্তিশালী অভিনয়ের পাশাপাশি মেহের আফরোজ শাওন ও ফেরদৌস আহমেদের উপস্থিতি ছবিটিকে আরও প্রাণবন্ত করেছে। সুবীর নন্দীর কণ্ঠে ‘ও আমার উড়াল পঙ্খী রে’ গানটি আজও সমান জনপ্রিয়।

শ্যামল ছায়া (২০০৪)
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এই চলচ্চিত্রে যুদ্ধকালীন মানুষের সংকট, আত্মত্যাগ ও মানবিকতার গভীর চিত্র তুলে ধরেছেন হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন ফরীদি, রিয়াজ, মেহের আফরোজ শাওন, শিমুল ও ডা. এজাজসহ একঝাঁক তারকার অভিনয়ে ছবিটি সমৃদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এটি অস্কারের সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে মনোনয়ন বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়েছিল।

আরও পড়ুন

নুসরাত ফারিয়ার নতুন চমক, এবার যা করতে যাচ্ছেন...

 

হুমায়ূন আহমেদ নির্মিত বাকি তিনটি চলচ্চিত্র হলো ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’, ‘আমার আছে জল’ এবং ‘ঘেঁটুপুত্র কমলা’। সংখ্যায় কম হলেও তার প্রতিটি চলচ্চিত্রই বাংলা সিনেমার ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে এবং নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

 

এলআইএ