মার্কিন অল-ফিমেল রক ব্যান্ড ‘এল৭’র বেসিস্ট জেনিফার ফিঞ্চ আর নেই। দীর্ঘদিন বিরল ধরনের ব্রেন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর ৫৯ বছর বয়সে মারা গেছেন তিনি। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ব্যান্ডটি।

ব্যান্ডের আনুষ্ঠানিক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে জানানো হয়, গভীর শোকের সঙ্গে তারা তাদের প্রিয় সহশিল্পী, বন্ধু ও দীর্ঘদিনের সঙ্গী জেনিফার ফিঞ্চকে বিদায় জানাচ্ছে। এই ঘোষণার পরপরই ভক্ত ও সহশিল্পীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

মৃত্যুর কিছুদিন আগেই জেনিফার ভক্তদের জানিয়েছিলেন, তিনি বিরল ধরনের মস্তিষ্কের ক্যান্সারে আক্রান্ত। শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে ব্যান্ডের নির্ধারিত বিদায়ী সফর থেকেও নিজেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হন।

জেনিফার ফিঞ্চ শুধু একজন বেসিস্টই ছিলেন না, তিনি একজন ফটোগ্রাফার হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। নব্বইয়ের দশকে গ্রাঞ্জ ও পাঙ্ক রক ধারার অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘এল৭’র সাফল্যের পেছনে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল।

ব্যান্ডটির সবচেয়ে সফল অ্যালবাম ‘ব্রিকস আর হেভি’ ১৯৯২ সালে প্রকাশিত হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যালবামটির তিন লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছিল, যা সে সময়ের অন্যতম বাণিজ্যিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে অ্যালবাম বিক্রির অর্থের বড় অংশই রেকর্ড কোম্পানি, ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য খাতে ব্যয় হওয়ায় শিল্পীদের হাতে তুলনামূলক কম অর্থ পৌঁছায়।

আরও পড়ুন

মেয়ের ছবি তোলা ঠেকাতে যা করলেন রানি মুখার্জি

জেনিফার কখনোই নিজের আয় বা সম্পদের পরিমাণ প্রকাশ করেননি। ফলে তার প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ জানা যায়নি। তবে সংগীতজীবন ও অন্যান্য পেশাগত কাজের ভিত্তিতে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের ধারণা, মৃত্যুকালে তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫ লাখ মার্কিন ডলার হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই।

ক্যান্সারের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে এবং তার সৃষ্টিশীল কাজ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে গোফান্ডমি প্ল্যাটফর্মে একটি তহবিল গঠন করা হয়েছিল। সেই উদ্যোগে প্রায় ৩ লাখ ৯৪ হাজার মার্কিন ডলার সংগ্রহ করা হয়। এই অর্থ চিকিৎসা, নার্সিং সেবা, ফিজিক্যাল থেরাপি এবং তার ফটোগ্রাফি ও অন্যান্য সৃষ্টিকর্ম ডিজিটাল আর্কাইভ হিসেবে সংরক্ষণের কাজে ব্যয় করার পরিকল্পনা ছিল।

আরও পড়ুন

অন্তঃসত্ত্বা হয়েও রাতভর অ্যাকশন দৃশ্যের শুটিং করছেন দীপিকা, কারণ কী?

জেনিফারের মৃত্যুতে সংগীত অঙ্গনের অনেকেই শোক প্রকাশ করেছেন। ভক্তদের কাছে তিনি শুধু একজন দক্ষ বেসিস্টই নন, বরং নারীকেন্দ্রিক রক সংগীতের অন্যতম অনুপ্রেরণাদায়ী মুখ হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

এমএমএফ