কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে হাওরে ১৫ দিনের এক শিশুর মরদেহ বহনকারী ট্রলারে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নৌকায় থাকা যাত্রীদের তিনটি মোবাইল ফোন, ট্রলারে সোলার প্যানেলের ব্যাটারি এবং নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ১০টার দিকে উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের নোয়াগাঁও সুইজগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নৌকায় থাকা শিশুটির দাদা আবদুল হক জানান, মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের চমকপুর গ্রামের বাবু মিয়ার ১৫ দিনের কন্যাশিশু জন্মের পর অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রথমে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেলে শিশুটি মারা যায়। এরপর পরিবারের সদস্যরা শিশুটির মরদেহ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
তিনি বলেন, করিমগঞ্জের বালিখলা ঘাট থেকে ট্রলার ছাড়ার প্রায় ১৫ মিনিট পর একটি ছোট নৌকায় করে ছয় সদস্যের একটি ডাকাত দল তাদের গতিরোধ করে। তারা ডাকাতদের বারবার অনুরোধ করে জানান, নৌকায় একটি শিশুর মরদেহ রয়েছে। কিন্তু ডাকাতরা কোনো কথাই শোনেনি। মারধরের ভয় দেখিয়ে ট্রলারে থাকা যাত্রীদের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
নৌকার মাঝি রতন মিয়া জানান, নোয়াগাঁও সুইজগেট এলাকায় পৌঁছানোর পর ডাকাতরা ট্রলারে উঠে সোলার প্যানেলের ব্যাটারিও খুলে নিয়ে যায়। এ ছাড়া প্রায় সাড়ে চার হাজার টাকা লুট করে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হাওরাঞ্চলে নৌপথে চলাচলকারী যাত্রীরা রাতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। নৌ পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
চামড়াঘাট নৌ পুলিশের ইনচার্জ মো. ইস্কান্দার বলেন, ঘটনাটি তাদের নজরে এসেছে। তবে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসকে রাসেল/কেএইচকে/এএসএম








