শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে মায়ের বুকের দুধের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, জীবনের শুরুতে মায়ের দুধ শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।
শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগমান’ প্রতিপাদ্য নিয়ে মাতৃদুগ্ধ পান বাড়াতে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্বস্বাস্থ্য অনুবিভাগ) শেখ মোমেনা মনি এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী প্রমুখ।
আরও পড়ুন
ডাক্তারের ভালো আচরণ রোগীকে অর্ধেক সুস্থ করে দেয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
মায়ের দুধ পানে সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘মহান আল্লাহ তাআলা মায়ের দুধকে দুনিয়ার সেরা প্রোটিন হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। জীবনের প্রথম চার-পাঁচ মাস একটি শিশুর বৃদ্ধির মূল উৎসই হলো মায়ের দুধ। প্রসবের পরপরই শিশুকে শালদুধ খাওয়ানো অত্যন্ত জরুরি, যা প্রোটিনের সর্বোচ্চ ভান্ডার। পবিত্র কোরআনসহ সব ধর্মেই নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মায়ের দুধ খাওয়ানোর কথা বলা হয়েছে। অথচ বর্তমানে সিজারিয়ানের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া এবং সচেতনতার অভাবে অনেক শিশু শালদুধ ও মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে মানুষের জীবনযাত্রা ছিল খুব সাধারণ, কিন্তু শিশুদের প্রতি ভালোবাসা ও যত্ন ছিল অকৃত্রিম। বর্তমান সময়ে শিক্ষিত ও বিত্তবান সমাজে শিশুদের প্রতি সেই যত্ন অনেকটাই অনুপস্থিত।’
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাম রোগীদের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, ‘পুষ্টিহীনতার কারণে শিশুদের শরীর দুর্বল হয়ে পড়ছে। অনেক মা নিজের অপুষ্টির অজুহাত দেখিয়ে শিশুকে দুধ দেওয়া বন্ধ রাখেন, যা একেবারেই অনুচিত। অল্প বয়সে বিয়ে, অসচেতনতা এবং শিশুকে দুধ না দেওয়ার কারণেই পুষ্টিহীনতা বাড়ছে।’

বিগত দিনে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে মন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘গত এক বছরে গ্রামের সাধারণ মানুষকে সচেতন করার মতো কার্যকর কোনো সভা-সেমিনার করা হয়নি। এখন থেকে বার্ষিক কর্মসূচি তৈরি করে প্রতি মাসে অন্তত একটি জেলায় গিয়ে সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে মাতৃদুগ্ধ পানের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে হবে এবং তা পালনে সচেষ্ট হতে হবে। এতে দেশের মানুষ সচেতন হবে এবং নিরাপদে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে উঠতে সহযোগিতা করবে। সেইসঙ্গে কমে আসবে শিশু মৃত্যুর হার।’
শিশুখাদ্য ও বিকল্প দুধের ব্যবহার নিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশে মাতৃদুগ্ধের বিকল্প খাদ্য নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন রয়েছে। বাজারে প্রচলিত প্রিজারভেটিভ ও ওষুধ মেশানো গুঁড়ো দুধের চেয়ে ঘরে তৈরি সুষম খাবার বাচ্চার জন্য অনেক বেশি উপযোগী। ছয় মাস বয়স থেকে চালের কুঁড়া, ডাল, আলু ও শাকসবজি দিয়ে তৈরি খিচুড়িজাতীয় পথ্যই শিশুদের জন্য সেরা খাবার।’
মায়েদের উদ্দেশে আবেগঘন অনুরোধ জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মহান আল্লাহর দেওয়া মাতৃদুগ্ধের নিয়ামত থেকে মায়েরা যেন তাদের সন্তানদের কোনোভাবেই বঞ্চিত না করেন। মা যখন শিশুকে বুকে টেনে নেন, শিশু তখনই তার পরম নিরাপত্তায় কান্না থামায়। তাই কৃত্রিম বিকল্পের দিকে না গিয়ে শিশুদের প্রকৃতির এই স্বাভাবিক উপহার দেওয়া উচিত। একটি সুন্দর, সুস্বাস্থ্য ও শক্তিশালী শিশুগোষ্ঠী গড়ে তোলাই হোক আজকের দিনের প্রধান শপথ, যারা ভবিষ্যতে দেশের হাল ধরবে।’
এসইউজে/এমআরএম







