প্রতিষ্ঠান হিসাবে ভারতেশ্বরী হোমসের নাম জানা থাকলেও যিনি এর প্রতিষ্ঠাতা, তার সম্পর্কে জানা ছিল না। এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন দানবীর রণদাপ্রসাদ সাহা, সংক্ষেপে আরপি সাহা। এ প্রতিষ্ঠানের কথা যার কাছে প্রথম শুনি, তিনি আমার ছোটদাদা গ্রন্থসুহৃদ এমদাদ হোসেন ভূঁইয়া। তিনি আমাকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যাপারে জানান এবং সেখানে আমাকে ভর্তি করার জন্য আমার মা-বাবাকে উদ্বুদ্ধ করেন। এভাবেই ভারতেশ্বরীতে আমার শিক্ষাজীবনের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু।
ভারতেশ্বরী হোম্স বাংলাদেশের সেরা আবাসিক স্কুলগুলোর একটি। যা দেখার অদম্য কৌতূহল আমার মনে জাগে। ক্লাস ফোরে পাঠ শেষে সুযোগ এলো ইন্টারভিউ দেওয়ার। মনে দুরু ভাব, চান্স পাব কি পাব না। কারণ সেখানে চান্স পাওয়া শুধু মুখের কথা নয়। তার ওপর এটা কোনো আবাসিক স্কুলে ভর্তির জন্য আমার প্রথম ‘এডমিশন টেস্ট’। হোস্টেল জীবন কেমন, সে বিষয়ে আমার কোনো ধারণা ছিল না। তা-ও মনে করলাম, প্রতিষ্ঠানটি অন্তত একবার হলেও দেখার সুযোগ পাব। তাতেই খুশি। কিন্তু প্রথমবার দেখে আমি বিস্মিত। নিয়মশৃঙ্খলা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সবকিছু মিলে ভারতেশ্বরী হোমস শিক্ষার এক অনন্য প্রতিষ্ঠান।
এডমিশন টেস্টের দিন সব কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরতে রাত হয়ে গেল। পরীক্ষার ফল পেতে আরও তিন দিন লাগবে। দেখতে দেখতে ফল বেরোনোর দিনটি এসে গেল। অপরিচিত নাম্বার থেকে বাবার ফোনে কল এলো। ওপাশ থেকে বলা হলো, আপনার মেয়ের এডমিশন হয়ে গেছে। এটা শোনার পর আমি মহাখুশি। আবার কষ্টও ছিল। কারণ এই প্রথম মা-বাবার কাছ থেকে আলাদা থাকব। দেখতে দেখতে যাওয়ার দিন এসে পড়ল। ছোট দাদা, ছোট দাদি মনিরা খাতুন, মা শিমু আক্তার, বাবা আরাফাত ভূঁইয়া, একমাত্র চাচা ফাহাদ ভূঁইয়া, ছোট বোন নামিরা ও মালিহা সফরসঙ্গী হয়ে আমাকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ভারতেশ্বরী হোম্স স্কুলে পৌঁছে দিল। মা-বাবার সান্নিধ্য ছেড়ে প্রথম কিছুদিন কষ্ট হয়েছে। তবে আস্তে অস্তে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি। এভাবে ৬ বছর কেটে গেল। সামনে এসএসসি পরীক্ষা। স্কুল পর্ব শেষ হওয়ার পালা, বিদায়ের ঘণ্টা বেজে উঠল। স্মৃতির পাতায় ৬ বছরে অনেক কথা জমা। সময়-সুযোগ হলে লেখার ইচ্ছা রইল। যা সারা জীবনের সঞ্চয় হয়ে আছে। হোস্টেল জীবনে পাঠিয়ে আমার পরিবারও আমার জন্য অনেক মনোবেদনা সহ্য করেছে। তবে বড় কিছু পেতে হলে, বড় ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। আমি গর্ববোধ করি, আমি এরকম স্বনামধন্য একটি স্কুল থেকে পড়ালেখা করার সুযোগ পেয়েছি। স্কুল জীবনের পাঠ শেষ করেছি। এর কৃতিত্ব আমার পরিবারের সব সদস্যের। সব প্রশংসা মহান রাব্বুল আলামিনের।
যুগ্ম আহ্বায়ক, স্বজন সমাবেশ, বেরাইদ (ঢাকা)








