সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হওয়া এক তরুণীর সঙ্গে দেখা করা, পৈতৃক সম্পত্তির দাবি জানানো এবং নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্ন নিয়ে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিক কাশ্মীরের ২২ বছরের এক তরুণ নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে শনিবার তাঁকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর শ্রীনগরভিত্তিক চিনার কর্পস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, পাকিস্তানের বাসিন্দা লাল মিরের ছেলে জিশান মিরকে ২০২৬ সালের ৩১ মে উরি সেক্টরে নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করার সময় আটক করা হয়। পরে ৪ জুলাই ভারতীয় সময় দুপুর ১২টা ২৪ মিনিটে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়।

বার্তা সংস্থা পিটিআই তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, পরিবারের পক্ষ থেকে জীবিকা উপার্জন এবং সংসারের আর্থিক দায়িত্ব বহনের জন্য ক্রমাগত চাপের মধ্যে ছিলেন জিশান মির। এমন সময় স্ন্যাপচ্যাটে কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলার তুলওয়ারি গ্রামের বাসিন্দা ইরুম বানুর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। অল্প সময়ের মধ্যে তাঁদের বন্ধুত্ব গভীর আবেগপূর্ণ সম্পর্কে পরিণত হয়।

একপর্যায়ে দুজন জানতে পারেন, জিশান মিরের পূর্বপুরুষদের বাড়িও ছিল বারামুলার ওই তুলওয়ারি গ্রামে, যেখানে বর্তমানে ইরুম বানু বসবাস করেন। নিজের পারিবারিক সংকটের কথা জিশান মির জানালে, ইরুম বানু তাঁকে সীমান্ত পেরিয়ে নিজের গ্রামে চলে আসার পরামর্শ দেন।

কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দুজন একটি পরিকল্পনাও করেন। সেই পরিকল্পনা ছিল, জিশান মির সীমান্ত অতিক্রম করে সরাসরি ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করবেন এবং অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের জন্য আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সাজা ভোগ করবেন। এরপর মুক্তি পাওয়ার পর তিনি আইনিভাবে পৈতৃক সম্পত্তির দাবি জানাবেন এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করবেন।

কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোয়নি। মে মাসে সীমান্ত অতিক্রমের সময় ভারতীয় সেনাবাহিনী তাঁকে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদের অংশ হিসেবে জিশান মিরের দাবির সত্যতা যাচাই করতে ইরুম বানুকে তলব করা হয়। সেখানে তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানান, যেন জিশান মিরকে ভারতে থাকতে দেওয়া হয়।

এরপর নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পুরো ঘটনার বর্ণনা খতিয়ে দেখে। ঘটনাটির পেছনে কোনো বহিরাগত প্রভাব, গোপন উদ্দেশ্য বা অন্য কোনো সন্দেহজনক দিক রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের পর আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গতকাল শনিবার ভারতীয় সেনাবাহিনী জানায়, জিশান মিরকে আনুষ্ঠানিকভাবে কামান আমন সেতুতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।