দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপির দেওয়া কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশের বিষয়ে মুখ খুলেছেন ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখর উদ্দিন আহমেদ (বাচ্চু)।
তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। গত সপ্তাহে প্রকাশিত কয়েকটি অনলাইন পোর্টালের সংবাদের সূত্র ধরে দল থেকে তার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল এবং তিনি তখনই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরেছেন।
রোববার (১৯ জুলাই) সকালে জাগো নিউজকে মুঠোফোনে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি এখনো দলীয় প্যাডে দেওয়া শোকজের চিঠি হাতে পাইনি। আজ হয়ত সংগ্রহ করব। চিঠি হাতে পেলেই অবশ্যই লিখিত জবাব দেব। আমি দলের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও আনুগত্যশীল।’
তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহে কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে দলের দপ্তর থেকে আমার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তখন সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের কনফারেন্স কলে দলের দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্ত করি। সেখানেই তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে কোনো জোরজবরদস্তি বা দখলের ঘটনা ঘটেনি এবং সব কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। বিষয়টি দলীয় চেয়ারম্যানকেও অবহিত করা হয়েছে।’
২৫ জুনের একটি ঘটনাকে ঘিরেও অভিযোগ আনা হয়েছে উল্লেখ করে ফখর উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘২৫ তারিখে ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করেছিল। এর পাল্টা হিসেবে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও মিছিল করে। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন কোনো কারখানার সামনে বিএনপির নেতাকর্মীদের জড়ো করে দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। বাস্তবে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

বনের জমি দখলের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘মূল বিষয়টি হচ্ছে বন সংরক্ষণ কমিটির সমন্বয়ে দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে থাকা সরকারি খাস ও বনভূমি উদ্ধার কার্যক্রম চলছে। গত ১৭ বছরে কোথায় কোথায় জমি দখল হয়েছে, তার তালিকা করে বৈঠকের মাধ্যমে পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। উদ্ধার হওয়া জমিতে বন বিভাগ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এখানে এমপি বা আমার লোকজন গাছ লাগাচ্ছে না, বন বিভাগই কাজ করছে।’
আরও পড়ুন
ফের বিতর্কে ভালুকার এমপি, কারণ দর্শানোর নোটিশ বিএনপির
তিনি বলেন, ‘স্থানীয়দের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য বন সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি হিসেবে ইউএনওর উপস্থিতিতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। যারা সিএস রেকর্ডসহ বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পেরেছেন, তাদের বিষয় আলাদাভাবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। আর যেসব জমি সরকারি গেজেটভুক্ত বনভূমি হিসেবে চিহ্নিত, সেখানে কাউকে হাত না দিতে বলা হয়েছে। ওই জমিতে বন বিভাগ গাছ লাগাবে এবং স্থানীয়দের রক্ষণাবেক্ষণের কাজে সম্পৃক্ত করা হবে।’
সরকারি সংস্থার ভূমি উদ্ধার কার্যক্রমের দায় তার ওপর চাপানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, ‘ভালুকার যেসব জায়গা সরকারি খাস জমি হিসেবে তালিকাভুক্ত এবং দীর্ঘদিন বেদখলে ছিল, সেগুলো জেলা প্রশাসন ও ভূমি অফিস ম্যাপ অনুযায়ী উদ্ধার করছে। উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে সরকারি সংস্থা। কিন্তু সেই দায়ও আমার ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার এলাকায় কোনো সমস্যা নেই। গত সাড়ে চার থেকে পাঁচ মাসে যদি দখল, চাঁদাবাজি বা এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটতো তাহলে অবশ্যই গণমাধ্যমে উঠে আসত।’
২০২৪ সালের ঘটনায় তাকে আবারো অভিযুক্ত করার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ‘চিঠিতে আগের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সেই ঘটনা দলীয়ভাবে তদন্ত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তদন্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে আমার বা আমার কোনো লোকের সম্পৃক্ততা পায়নি। ফোনালাপসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাইয়ের পরই দল আমাকে নির্দোষ বিবেচনা করে সদস্যপদ ফিরিয়ে দিয়েছিল। এখন আবার সেই পুরোনো ঘটনা উল্লেখ করে শোকজ দেওয়াকে আমি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছি।’
এর আগে শনিবার বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা এক নোটিশে ফখর উদ্দিন আহমেদের কাছে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। নোটিশে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে দুঃখ প্রকাশ করে আবেদন করায় ২০২৫ সালের ২৪ অক্টোবর তার সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ও তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে আবারও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হোসাইন সুলভ/এফএ/এএসএম






