বাংলা সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের প্রখ্যাত কবি, সাহিত্যিক ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদারকে ‘সোনালী কাবিন পদক-২০২৬’-এ ভূষিত করা হয়েছে। শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কবি আল মাহমুদের জন্মদিন উপলক্ষ্যে তার স্মরণোৎসবে কবি আবদুল হাইয়ের হাতে এই পদক তুলে দেওয়া হয়।

বাংলা কবিতার এক অনন্য নির্মাতা, মহাকালের কবি আল মাহমুদের জন্মদিন উপলক্ষ্যে তার জন্মভূমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিন দিনব্যাপী স্মরণোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার শহরের নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সমাপনী অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ও কথাসাহিত্যিক মো. আবু সাঈদ। প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ-সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।

বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট সফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ভিপি জহিরুল হক জহির, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মো. হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান মঞ্জু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কবি আল মাহমুদ গবেষণা কেন্দ্র ও স্মৃতি পরিষদের সভাপতি মো. ইব্রাহিম খান সাদত। অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ আলোচক ছিলেন কবি আল মাহমুদ গবেষক ডক্টর ফজলুল হক তুহিন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাহিত্য একাডেমির সভাপতি কবি জয়দুল হোসেন, নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাহিদুল ইসলামসহ জেলার বিশিষ্ট সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও কবিতাপ্রেমীরা। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সাংবাদিক মো. আকরাম হোসেন, এইচএম আবুল বাশার, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. মনির হোসেন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, বিএনপি নেতা আরমান উদ্দিন পলাশ, কবি শাহ মো. সানাউল হক প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, আল মাহমুদ কেবল একজন কবি নন, তিনি বাংলা ভাষার মাটি, মানুষ, প্রেম, ইতিহাস ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য কণ্ঠস্বর। তার কবিতায় যেমন গ্রামীণ বাংলার সৌন্দর্য ধরা পড়েছে, তেমনি উঠে এসেছে মানুষের সংগ্রাম, স্বাধীনতার চেতনা এবং শেকড়ের গভীর টান। ‘লোক লোকান্তর’, ‘কালের কলস’, ‘সোনালী কাবিন’সহ তার অসংখ্য কাব্যগ্রন্থ বাংলা সাহিত্যে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে। তার নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়, স্মৃতি জাদুঘর, আল মাহমুদ গবেষণা কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় তার নামকরণের দাবি জানিয়েছেন বক্তারা।

আলোচকরা আরও বলেন, সময়ের নানা বিতর্ককে ছাপিয়ে আল মাহমুদের সাহিত্য আজও পাঠকের হৃদয়ে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। নতুন প্রজন্মকে তার সাহিত্যচর্চার সঙ্গে আরও গভীরভাবে পরিচিত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিন দিনব্যাপী এ স্মরণোৎসবে আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, স্মৃতিচারণ এবং সাহিত্যবিষয়ক বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই উৎসবের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্ম আবারও আবিষ্কার করবে সেই কবিকে, যিনি বাংলা কবিতায় গ্রামবাংলার রূপ, মানুষের স্বপ্ন, প্রেম ও প্রতিবাদের ভাষাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন।