গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানায় অসুস্থ শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে ৭০ জনে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকায় অবস্থিত কারখানাটিতে হঠাৎ একের পর এক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে অসুস্থ শ্রমিকদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আলহেরা হাসপাতালের পরিচালক ডা. আবুল হোসাইন জানান, তাদের হাসপাতালে অর্ধশতাধিক শ্রমিক ভর্তি হয়েছেন। অসুস্থ শ্রমিকদের মধ্যে বমি, মাথা ঘোরা ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা গেছে। গুরুতর অসুস্থ সাতজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গুরুতর অসুস্থ শ্রমিকরা হলেন—মোমেনা (২৮), মিনু (২৬), সনিয়া (২১), কাকলি (৩০), মারুফা (৩০), রায়তুন নাহার (২৭) ও মামুন (৩২)।

শ্রমিকরা জানান, কারখানার একটি ফ্লোরে হঠাৎ করে একের পর এক শ্রমিক বমি, মাথা ঘোরা ও শারীরিক দুর্বলতা অনুভব করতে শুরু করেন। অনেকেই অসুস্থ হয়ে মেঝেতে পড়ে যান। এতে কারখানাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

শ্রমিক জেসমিন আক্তার বলেন, কিছুদিন আগে একই ফ্লোরে লিজা বেগম নামে এক শ্রমিক অসুস্থ অবস্থায় কাজ করতে গিয়ে মারা যান। এবারও ওই ফ্লোরেই একাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়েছেন। তবে কী কারণে এমন হচ্ছে, তা জানা যায়নি।

আরেক শ্রমিক মনিরা জানান, অসুস্থদের মধ্যে বমি, মাথা ঘোরা ও দুর্বলতার উপসর্গ দেখা গেছে। একটি ফ্লোরের প্রায় সব শ্রমিকই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

এদিকে, ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ সাংবাদিকদের। সাংবাদিক সবুজ মিয়া অভিযোগ করেন, কারখানার সামনে ছবি ও ভিডিও ধারণের সময় কর্তৃপক্ষ তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, অসুস্থ শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।